ভোটের মুখে ‘SIR’ নিয়ে দিল্লি-বাংলা সংঘাত, দুর্গাপুজোর জন্য বাড়তি সময় চাইল রাজ্য

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বড়সড় সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার দিল্লির বৈঠকে কমিশন সব রাজ্যকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (সার)-এর প্রস্তুতি শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। এর পরেই সারা দেশে সার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় কমিশন।
পুজোর জন্য কি বাড়তি সময় পাবে বাংলা?
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল পুজোর মরশুমের কথা উল্লেখ করে বাংলাকে বাড়তি সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে জানিয়েছেন, সার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোটার তালিকায় যেন কোনো বিদেশি নাগরিকের নাম না থাকে, এবং কোনো ভারতীয় নাগরিকের নাম যেন বাদ না পড়ে।
রাজ্যের সিইও দপ্তরের আধিকারিকদের আশা, দীপাবলির পরে অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
আধার কার্ড কি বাধ্যতামূলক হচ্ছে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিহারে সার-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথির তালিকায় ১২তম পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে কমিশন। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আধার শুধুমাত্র পরিচয়পত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হবে, এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। কমিশন প্রয়োজনে নাগরিকত্বের অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারবে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ির এক সভায় বলেন, “আমি ডিএম-কে বলব, যাদের আধার কার্ড নেই, বিশেষ ক্যাম্প করে তাদের আধার কার্ডটা করিয়ে দিন। দুয়ারে সরকার করে ওটা করে দিন।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
সার প্রক্রিয়া নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি বলেছেন, “সার নিয়ে আমরা আদালতের বাইরে-ভিতরে লড়াই করব।” তিনি আরও বলেন, বিজেপি যদি ভুয়ো ভোটারের কথা বলে, তাহলে সেই একই তালিকায় নরেন্দ্র মোদী কীভাবে নির্বাচিত হলেন? তিনি বলেন, বিজেপিকে পদে পদে ধাক্কা খেতে হচ্ছে, আধার কার্ডকে ১২তম সংযোজন হিসেবে বাধ্যতামূলক করতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।
- শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী: অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছেন যে, বাংলায় সার হলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ভোটার ধরা পড়বে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, “ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। শুধু এখন দেখলে হবে না, আগামী ছয়-সাত মাস দেখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ওরা বলবে এনআরসি করিয়ে দাও।”