“২ মাসে ১০ লক্ষের বেশি আবেদন!”-বাংলায় লিস্টে নাম তোলার হিড়িক ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (Special Intensive Revision বা SAR) তারিখ এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন, কিন্তু তার আগেই নতুন নাম তোলার এবং ঠিকানা বদলের হিড়িক পড়েছে। মাত্র দু’মাসে ১০ লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করছে কমিশন।
১ জুন থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত, কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে ১০ লক্ষ ৪ হাজার ৬৬৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই এসেছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে। যেমন— উত্তর ২৪ পরগনা (১,৩৭,৩২১), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৯৫,২৩৭), মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর এবং কোচবিহার। এই অস্বাভাবিক সংখ্যক আবেদন কমিশনের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। সাধারণত যেখানে তিনটি আবেদন জমা পড়ে, সেখানে এবার ১০টি আবেদন জমা পড়ছে।
প্রাপ্ত আবেদনের মধ্যে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬৮৭টি উপযুক্ত নথি না থাকায় বাতিল হয়েছে। আরও ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৫টি আবেদন এখনো যাচাই করা হচ্ছে। গত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যেও ২ লক্ষ ৩৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি বাতিল হয়। তখনও মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছিল।
ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে এবার কমিশন ও জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। নতুন নাম তোলার পাশাপাশি, ঠিকানা বদলের জন্য জমা পড়া ফর্ম ৮-এর আবেদনও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ময়না ও বারুইপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও এবং এইআরও-রা উপযুক্ত যাচাই না করে নাম তালিকায় তোলার অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে। বিধাননগর, নন্দকুমার-সহ ২৯টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও, এইআরও-রা প্রতিটি আবেদন পরীক্ষা করছেন এবং ঠিকানা ঠিক আছে কি না, তা বিএলও-দের দিয়ে যাচাই করাচ্ছেন।
এই অস্বাভাবিক আবেদন বৃদ্ধির পেছনে কী কারণ, তা নিয়ে আজ ও আগামীকাল দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।