সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ভাদ্রমাসে ভাদুমনি’ নয়, ভাদুমনি বেঁচে আছে আজও এই শিল্পীর কণ্ঠে

বাংলা লোকসংস্কৃতির এক হারিয়ে যাওয়া রত্ন ‘ভাদু গান’। একসময় ভাদ্র মাস এলেই গ্রামীণ বাংলার প্রতিটি ঘর মুখরিত হতো ভাদু গানের সুরে। আধুনিকতার দাপটে সেই সুর এখন অনেকটাই নীরব। তবে পুরুলিয়ার এক শিল্পী আজও সেই লোকগানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁর কণ্ঠে এবং সৃষ্টিতে।
তিনি ষষ্ঠীপদ বাউরি, পুরুলিয়ার কাশীপুরের ছাতামাড়া গ্রামের বাসিন্দা। লোকসংস্কৃতির এই প্রাচীন ধারাকে শুধু ধরে রাখাই নয়, নিজস্ব রচনা ও সুরে তিনি এটিকে নতুন জীবন দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তিনি ১১৮টি নতুন ভাদু গান রচনা করেছেন, যা বাংলার লোকগানের ভাণ্ডারে এক অমূল্য সম্পদ।
ভাদু গানের প্রাণপুরুষ
ভাদু গান মূলত গ্রামীণ নারীদের হৃদয়ের আবেগ ও ভালবাসার প্রকাশ। এই গানে রাজকন্যা ভদ্রাবতীর প্রেম, বিরহ ও ভালবাসার চিরন্তন কাহিনি উঠে আসে। ষষ্ঠীপদ বাউরির কণ্ঠে আজও এই গান মুগ্ধতা ছড়ায়। প্রতি ভাদ্র মাসে তাঁর গানের আসরে বহু মহিলা যোগ দেন।
ষষ্ঠীপদ বাউরির এই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পুরুলিয়া ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন, ভাদু গান শুধু বাংলার গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, একদিন বিশ্বমঞ্চেও তার স্থান হবে। যখন লোকসংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে, তখন ষষ্ঠীপদ বাউরীর মতো শিল্পীরা প্রমাণ করছেন, লোকগানের হৃদস্পন্দন আজও জীবন্ত এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও পথ দেখাতে সক্ষম।