জানেন কেন ইভিএম নয়, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখনও ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়

দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদে ভোটগ্রহণ চলছে। লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে ইভিএম-এর বদলে এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো কাগজের ব্যালট। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই ডিজিটাল যুগেও এমন পুরনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়?

ব্যালট পেপার ব্যবহারের কারণ
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ব্যবহারের কয়েকটি প্রধান কারণ হলো:

গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা: সংবিধানের ৫৪ নম্বর ধারা এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, এই নির্বাচন গোপনে অনুষ্ঠিত হয়। কাগজের ব্যালট ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটদানের পূর্ণ গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা রক্ষা করা যায়, যা ইভিএম-এর ক্ষেত্রে সবসময় নিশ্চিত করা যায় না।

সংশোধন ও পুনর্গণনা: ব্যালট পেপারে ভোট গণনা নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে পুনরায় গণনা করে ভুল সংশোধন করা সম্ভব। ইভিএম-এ এই ধরনের সুবিধা সীমিত।

একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটারদের তাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, যা ইভিএম-এ সম্ভব নয়।

আইনি বাধ্যবাধকতা: ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে এবং সংসদে নতুন বিল আনতে হবে। এই উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদের জন্য ইভিএম ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও, এই পদে ভোটদানের ক্ষেত্রে যে ধরনের জটিল পদ্ধতি (Single Transferable Vote) অনুসরণ করা হয়, তা ইভিএম-এ কার্যকর করা কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে এই নির্বাচনগুলিতে কাগজের ব্যালটকেই নিরাপদ ও স্বচ্ছ বলে মনে করা হয়। যদিও ইভিএম ব্যবহার করলে ভোটদান ও গণনার গতি বাড়বে বলে অনেকে দাবি করেছেন, তবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।