কে এই সুদান গুরুং, যিনি নেপালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নতুন মুখ

নেপালে সম্প্রতি শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী তুমুল বিক্ষোভে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এক যুবক, সুদান গুরুং। এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে সন্তান হারানোর পর থেকেই তিনি অহিংস প্রতিরোধে বিশ্বাসী এবং এখন তিনিই নেপালের ছাত্র-যুব আন্দোলনের নতুন মুখ।
কেন আন্দোলন?
নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং সম্প্রতি ফেসবুক, এক্স, টিকটক ও ইউটিউব সহ মোট ২৬টি সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে ওঠে তরুণ প্রজন্ম। তাদের দাবি, সরকার দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এবং বাকস্বাধীনতা হরণ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পুলিশের গুলিতে এবং সেনার আক্রমণে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণবিক্ষোভের মুখে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
সুদান গুরুংয়ের নেতৃত্ব
এই বিক্ষোভের পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুদান গুরুং। তিনি ‘হামি নেপাল’ নামে একটি যুব-পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বেই নেপালের ছাত্র-যুব সমাজ শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনে শামিল হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম পরে সমাবেশে যোগ দিতে এবং হাতে বই রাখার আহ্বান জানান। এই প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বার্তা দেন।
আন্দোলনকারীদের একত্রিত করতে এবং সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে সুদান গুরুং সমাজমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব নেপালের হতাশ তরুণ প্রজন্মের কাছে আশার আলো দেখিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিনি।