সরকারি অনুদানের পর এবার কলকাতা পুরনিগমের পুরস্কার, দুর্গাপুজোয় বাড়তি টাকা পাবে কলকাতার পুজো কমিটিগুলি

রাজ্য সরকারের ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদানের পাশাপাশি, এবার কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলো কলকাতা পুরনিগমের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে পেতে পারে। পুরসভার ‘কলকাতা শ্রী’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এই টাকা দেওয়া হবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এই পুরস্কার?
কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই এই বিতর্ক সামাল দিতে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই বিশাল আর্থিক কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পীরাও উপকৃত হন, যা তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই কারণেই কলকাতা পুরনিগম ভালো পুজোগুলিকে উৎসাহ দিতে ‘কলকাতা শ্রী’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

কলকাতা শ্রী কী?
প্রতি বছরই কলকাতা পুরনিগম বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা পুজো কমিটিগুলোকে ‘কলকাতা শ্রী’ পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও, মেয়র’স চয়েসে সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি পুজো কমিটি প্রতি বছর এই পুরস্কার পেয়ে থাকে।

সোমবার এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা করা হয়, যেখানে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এবং অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

বিরোধীদের আগাম জবাব
রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদান নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না থাকা সত্ত্বেও কেন এত টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে? এই বিতর্কের জল আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই বিতর্কের আবহে পুরনিগমের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই ফিরহাদ হাকিম আগাম জবাব দিয়ে বলেন, “যারা বলছেন কেন সরকার পুজোকে টাকা দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে, তারা এটা বুঝতে পারছেন না যে রাজ্যের অর্থনীতি এর মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।” তিনি বলেন, গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরাও পুজোর কাজ করে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করে নিজেদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারছেন।