২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো! ব্যাঘ্রবাহিনী দেবী দুর্গা পূজিত হন কোথায় জানেন?

বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে রাজবাড়ি ও জমিদার বাড়ির পুজো এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এমনই একটি বিখ্যাত পুজো হলো বাঁকুড়া জেলার অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদার বাড়ির পুজো। প্রায় ২৫০ বছর ধরে চলে আসা এই পুজোটি আজও তার প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

অযোধ্যার এই পুজোটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী নন, বরং ব্যাঘ্রবাহিনী রূপে পূজিত হন। মনোহর বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বর্তমানে এই পুজোর দায়িত্বে আছেন, ইটিভি ভারতকে জানিয়েছেন, চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে বর্ণিত দেবীর এই ব্যাঘ্ররূপের প্রতিমাটি রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছানুসারে তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিমার মুখ ছাঁচে তৈরি হয় না, বরং বংশপরম্পরায় একই পরিবার থেকে আসা শিল্পীরা হাতে তৈরি করেন।

জমিদারি প্রথা শেষ হলেও এই পুজোর বেশ কিছু ঐতিহ্য আজও টিকে আছে:

রূপোর পালকি: নবপত্রিকা বা কলাবউ স্নানের পর তাকে রূপোর পালকিতে করে মণ্ডপে আনা হয়। বিসর্জনের দিনও একইভাবে তাকে ভাসানঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাবেকিয়ানা: পুজোর জাঁকজমক আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও, প্রাচীন রীতিনীতি আজও মেনে চলা হয়।

অযোধ্যা এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮০৫ সালে এক নীলকর সাহেবের কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি দিয়ে এই জমিদারির সূচনা করেন। ক্রমে তাদের সম্পত্তি বাঁকুড়া, হুগলি এবং অবিভক্ত বর্ধমান ও মেদিনীপুরের ৮৫টি মৌজায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশাল জমিদারির আয় থেকে এখানে একটি বিশাল দেবোত্তর এস্টেটও তৈরি হয়, যেখানে দ্বাদশ শিবমন্দির, গিরি গোবর্ধন মন্দির, রাসমন্দির, ঝুলন মন্দির এবং দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

যদিও এখন পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য দেশের বাইরে থাকেন, পুজোর সময় তারা একত্রিত হয়ে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।