নেপালের সহিংস বিক্ষোভে থমকে গেল ভারত-নেপাল সীমান্ত, শিলিগুড়িতে আটকে বহু ট্রাক

নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতেও। গত তিন দিন ধরে পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত বন্ধ থাকায় দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্যিক সম্পর্কও মার খাচ্ছে। এই সহিংসতায় একজন ভারতীয় ট্রাকচালককে গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নেপাল সরকার মোট ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করলে দেশের তরুণ প্রজন্ম বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এরপর পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা নেপালের দিকের কাকারভিটা এবং বিরাটনগর সীমান্তে রাস্তা অবরোধ করে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বহু ভারতীয় ট্রাকচালক নিরাপত্তার কারণে তাদের গাড়ি নেপালে ফেলে রেখে ভারতে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে শতাধিক ট্রাক শিলিগুড়ির সীমান্তে আটকে আছে, যা এখানকার স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এই বিক্ষোভের জন্য “অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ”-কে দায়ী করেছেন। তবে চাপের মুখে সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়। এর মধ্যেই নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক, কৃষি ও পশুপালনমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং জাতীয় ব্যাংকের গভর্নরের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে।
ভারত সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা নেপালের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নয়াদিল্লি আশা করে, সমস্ত পক্ষ সংযম বজায় রাখবে এবং শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে। নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।