বনগাঁ-ভাটপাড়া নিয়ে সরাসরি অভিষেক! মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক দখলে নতুন কৌশল তৃণমূলের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই লক্ষ্যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার দমদম-ব্যারাকপুর এবং বনগাঁ— এই দুটি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। অভিষেকের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো একটি আসনও হাতছাড়া করা চলবে না, এবং সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে।
লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ আসনটি ফের বিজেপির দখলে চলে যাওয়ায় তৃণমূল নেতৃত্ব চিন্তিত। এই আসনে মোট সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে শুধুমাত্র স্বরূপনগরেই তৃণমূল সামান্য এগিয়ে ছিল। এই পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, মতুয়া গড়ে হারার কোনো সুযোগ নেই এবং ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক বিবাদের সঙ্গে দল কোনোভাবেই জড়াবে না। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে নতুন কৌশল নিয়েছে তৃণমূল:
বিজেপির প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে প্রচার: বিজেপির নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর অন্যান্য রাজ্যে ঘটে যাওয়া আক্রমণের ঘটনাগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে। যদিও তাঁদের কাছে পরিচয়পত্র রয়েছে, তবুও কেন তাঁরা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছেন, এই বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি: এই কর্মসূচির মাধ্যমে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় নেতাদের আরও বেশি সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।
দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় মোট ১৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিই তৃণমূলের দখলে। ব্যতিক্রম শুধু ভাটপাড়া, যা বর্তমানে বিজেপির হাতে। এই আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “ভাটপাড়ায় কেন আমরা পিছিয়ে থাকব? এখানেও জিততে হবে।” এই লক্ষ্য পূরণের জন্য স্থানীয় স্তরে সাংগঠনিক রদবদলও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দিনে বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে। বিগত নির্বাচনে প্রচার বা সাংগঠনিক স্তরে যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মাঠে নামতে হবে। ব্লক এবং টাউন সভাপতিদের নাম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠোর বার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কোনোভাবেই আর ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে দলের প্রভাব কমেছে, সেখানে এখন থেকেই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে তারা।