প্রথমবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সেমিস্টার পদ্ধতিতে, ভালোই হয়েছে পরীক্ষা: পড়ুয়ারা

এই প্রথমবার সেমিস্টার পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হলো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, যার প্রথম দিনেই পরীক্ষার্থীরা হাসিমুখে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে পরীক্ষার শুরুতেই অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের হাতে বই পেতে তিন মাস দেরি হয়েছে, যা তাদের পরীক্ষায় খারাপ ফল করতে পারে।

অভিভাবক সুশান্ত মণ্ডল বলেছেন, “ক্লাস শুরুর তিন মাস পর বই হাতে পেয়েছে বাচ্চারা। ওরা পড়াশোনা করবে কী করে?” আরেক অভিভাবক অর্চনা দাস ওএমআর শিটে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যদি একটু এদিক-ওদিক হয়ে যায়, তাহলে সঠিক উত্তর দিলেও ওরা নম্বর পাবে না।”

তবে, শিক্ষার্থীদের কথায় ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তারা জানিয়েছে, বই দেরিতে পেলেও তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। অনলাইনে সিলেবাস পাওয়া যাওয়ায় তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পেরেছে। সুকান্তনগর বিদ্যানিকেতনের ছাত্র তন্ময় বিশ্বাস বলেন, “বই পেতে একটু দেরি হয়েছে, কিন্তু অনলাইনে পুরোটাই পেয়ে গিয়েছিলাম।” বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সৃষ্টি নাগও বলেন, “টিউশনের শিক্ষকেরা সিলেবাস জানতেন এবং পড়ানো শুরু করে দিয়েছিলেন।”

সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, কিছু বই বিনামূল্যে দিতে অসুবিধা হলেও তারা আগেই পোর্টালে আপলোড করে দিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান যে, চতুর্থ সেমিস্টারের বইও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

অভিভাবকেরা পরীক্ষার সময় বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ করে অঙ্ক, পদার্থবিজ্ঞান এবং বাণিজ্য শাখার কিছু বিষয়ের জন্য। এই প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, “জয়েন্ট বা চাকরির পরীক্ষায় একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় থাকে। আমরা এই বিষয়টি পর্যালোচনা করব। সংসদ সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে। যদি কোনো সমস্যা দেখা যায়, আমরা অবশ্যই এটি নিয়ে আলোচনা করব।”