‘ভোট চুরি’ রাজনৈতিক কৌশল, তবে…?, কি বললেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনাররা

‘ভোট চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে যখন সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনাররা। তবে, তাঁরা স্বীকার করেছেন যে দেশের ভোট প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। সোমবার ইন্ডিয়া টুডে সাউথ কনক্লেভে এই বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনাররা।
প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এই অভিযোগকে ‘অরাজনৈতিক উক্তি’ (Apolitical Expression) বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ভারতে বর্তমানে যে ভোট হয়, তার প্রায় সম্পূর্ণটাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। ট্র্যাক রেকর্ড ঘাঁটলেই তা প্রমাণ করে দেওয়া যাবে। কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা কোনোভাবেই কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয়।” তবে তিনি বলেন, এখানে মূল ইস্যু হল নির্বাচন কমিশনের নির্ভরযোগ্যতা ও সততা।
প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশিও ভোটার তালিকার গরমিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভোট চুরির দাবিটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু, কিন্তু ভোটার তালিকা নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়। আমি বরাবরই বলে এসেছি যে, এই ইলেক্টোরাল রোল আমাদের দুর্বল অংশ। এই রোল যদি নির্ভুল ও স্বচ্ছ না হয়, তাহলে নির্বাচনেরও কোনো অর্থ থাকে না।”
আরেক প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত বলেন, “রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসনের সবচেয়ে সহজ উপায় নির্বাচন। তবে এটা ভাবা ভুল যে ভোটের সময় কোনো গোলমাল হবে না। কিছু ঘটনা ঘটবেই, কারণ এটাই স্বাভাবিক।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সব গণতন্ত্রের মধ্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’। বেশিরভাগ দেশই আমাদের নির্বাচনকে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নির্ভরযোগ্য বলে প্রশংসা করে।”
সার্বিকভাবে, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনাররা এই বার্তা দিলেন যে, রাজনৈতিক অভিযোগের ঊর্ধ্বে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য, যদিও কিছু ছোটখাটো ত্রুটি অবশ্যই রয়েছে।