মাত্র ৩ ঘণ্টার জন্য মণিপুর সফরে যাচ্ছেন মোদি, বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ

দীর্ঘ ২৯ মাস ধরে সংঘাত ও হিংসায় বিধ্বস্ত মণিপুর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের খবর পেয়েছে। কিন্তু এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। খবর অনুযায়ী, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য মণিপুর যেতে পারেন। বিরোধীরা এই সংক্ষিপ্ত সফরকে ‘অপমান’ এবং ‘প্রতীকী প্রদর্শনী’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বিরোধীদের কেন এত ক্ষোভ?
গত ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে মণিপুরে কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়েও প্রধানমন্ত্রী একবারও সংঘাতবিধ্বস্ত রাজ্যটিতে যাননি, যা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ চরমে।

কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই সফরকে “চরম নির্দয়তা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “২৯ মাস ধরে অপেক্ষার পর মাত্র তিন ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা মানে জনগণকে অপমান করা। এই তড়িঘড়ি সফরে তিনি কী-ই বা অর্জন করবেন, নিজের সমর্থকদের করতালি ছাড়া?”

বিদেশ সফর বনাম মণিপুর সফর
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশ সফরকারী প্রধানমন্ত্রী। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন দেশে মোট প্রায় ৮৯ দিন কাটিয়েছেন। তার বিদেশ সফরের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল এবং বিভিন্ন ছোট দ্বীপরাষ্ট্রও আছে। অথচ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাধিক সফর করলেও মণিপুর এবং মিজোরামকে তিনি উপেক্ষা করেছেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, তিন ঘণ্টার সফরে কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান বা আলোচনার সুযোগ নেই। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক উপস্থিতি ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখনও এই সফরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে ইম্ফল ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

মণিপুরের মানুষ হয়তো এই দীর্ঘ অপেক্ষার কথা মনে রাখবে, এবং তাদের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে—প্রধানমন্ত্রী সত্যিই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি না।