ছাত্রীকে গুলি করে খুন, অবশেষে গ্রেফতার মূল অভিযুক্তের বাবা, কীভাবে ধরা পড়ল রাঘবেন্দ্র

গত ২৫ আগস্ট কৃষ্ণনগরে কলেজ ছাত্রী ঈশিতা মল্লিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এবার মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিংয়ের বাবা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রাজস্থানের জয়সলমের থেকে তাকে আটক করা হয় এবং ট্রানজিট রিমান্ডে কৃষ্ণনগরে আনা হচ্ছে।

বাবা কেন গ্রেফতার?
পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর দেশরাজকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে তার বাবা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। রাঘবেন্দ্র রাজস্থানে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) ক্যাম্পে কর্মরত। ছেলের এই অপরাধ জেনেও তাকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে তাকে প্রথমে সেখানেই গৃহবন্দি (হাউস অ্যারেস্ট) করা হয়, এবং এবার ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হচ্ছে।

খুনের পেছনের কারণ এবং পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, ঈশিতার সঙ্গে দেশরাজের ৬-৭ মাস আগে সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরেই দেশরাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সে প্রায় ছয় মাস ধরে ঈশিতাকে খুনের পরিকল্পনা করে। পুলিশ বলছে, খুনের আগে সে এলাকায় রেকি করে যাতে সিসি ক্যামেরা এড়ানো যায়। এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপে সে অস্ত্রের ছবি দিয়ে ‘Very Soon’ লিখে নিজের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

খুনের দিন দেশরাজ শুধু ঈশিতাকে নয়, তার গোটা পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার ছক কষেছিল। কিন্তু গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় তার এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। যদিও সে সিসি ক্যামেরা এড়াতে সফল হয়েছিল, কিন্তু এক স্থানীয় ব্যক্তির মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার ছবি ধরা পড়ে যায়।

যেভাবে গ্রেফতার হয় দেশরাজ
খুনের পর দেশরাজ প্রথমে নৈহাটি এবং সেখান থেকে হাওড়া হয়ে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ উত্তরপ্রদেশ ও নেপাল সীমান্তের কাছে একটি জায়গা থেকে তাকে এবং তার মামা কুলদীপ সিংকে গ্রেফতার করে। কুলদীপ সিং প্রাক্তন সেনা কর্মী ছিলেন এবং তিনি দেশরাজকে আশ্রয় দিয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ দেশরাজকে গ্রেফতার করে।

বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশরাজ, তার মামা কুলদীপ এবং বাবা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং—এই তিনজনেই পুলিশের হেফাজতে।