আইন পেশাতেও এআই, বিচারপতিদের সাহায্য করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ঠিক কী হবে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায়

বর্তমান সময়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের বিচার ব্যবস্থা। এই মুহূর্তে, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র এবং সম্ভবত সেই কারণেই মামলার কাজ সহজ করতে এআই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে এজলাসে রোবট বসবে এবং রোবটই বিচার করবে। বিচারকরাই বিচার করবেন, কিন্তু তাঁদের কাজে সাহায্য করবে এআই।
কেন এই পদক্ষেপ?
আদালত মানেই অনেকের কাছে ‘তারিখ পে তারিখ’। এই দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য এআই-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। মামলার কাজে এআই ব্যবহার করে পুরনো মামলার রায় বা জরুরি তথ্য দ্রুত খুঁজে বের করে সময় বাঁচানো যাবে। প্রাথমিকভাবে, নিম্ন আদালতগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও, ছোটখাটো অপরাধ এবং জমি সংক্রান্ত মামলায় এআই প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিচারকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
এই নতুন প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য বিচারকদের বিদেশে পাঠানো হতে পারে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। আইন বিশেষজ্ঞ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “বিচারপতিকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এআই সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বিচার করতে হবে বিচারপতিকেই, কারণ মানব বুদ্ধিমত্তার উপরে আর কিছু হয় না।”
২০১৯ সালে এস্তোনিয়া প্রথম রোবো-বিচারক ব্যবহার করে, যদিও তখন এআই-এর এতটা প্রসার ছিল না। পরবর্তীতে তারা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে এআই-এর সমন্বয় ঘটায়। ভারতও সেই পথে হেঁটে বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং গতিশীল করতে চাইছে।