ভয় দেখিয়েও লাভ নেই! ভারতকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো বিপাকে ট্রাম্প, বিশ্ববাজারে বাজিমাত মোদীর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। শুধু তাই নয়, এই তেল প্রক্রিয়াজাত করে ইউরোপের বাজারে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে ভারত। এর ফলে ট্রাম্পের রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল ব্যর্থ হয়েছে, এবং আমেরিকা উল্টো নিজ দেশে সমালোচিত হচ্ছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল আমেরিকা। এজন্য ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত ট্রাম্পের এই চাপে দমে যায়নি। তারা রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনেছে এবং সেই তেল শোধন করে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে ইউরোপে বিক্রি করছে। এতে ভারতের তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে বহুগুণে।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ভারতের ডিজেল রপ্তানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী এনার্জি ট্র্যাকার কেপলার ও ভোর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইউরোপে ভারতের ডিজেল রপ্তানি মাসিক ভিত্তিতে ৭৩ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ১২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোর্টেক্সা জানিয়েছে, আগস্টে ইউরোপে ভারতের ডিজেল রপ্তানি ছিল প্রতিদিন ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৩১৬ ব্যারেল, যা গত বছরের তুলনায় ১৬৬ শতাংশ বেশি।
আমেরিকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে পশ্চিমের দেশগুলোতে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে ভারত পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে। এই অভিযোগের জবাবে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যদি পশ্চিমের দেশগুলোর কোনো আপত্তি থাকে, তবে তারা ভারতের সাথে চুক্তি বাতিল করতে পারে।
ভারতের এই কূটনৈতিক সাফল্য এবং রাশিয়া-চীন-ভারত জোটের কারণে ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “মনে হচ্ছে আমরা ভারত ও রাশিয়াকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেললাম।” সাংহাই সামিটে প্রধানমন্ত্রী মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর একসঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, আমেরিকাকে একঘরে করার জন্য কি এই ত্রিশক্তি জোট তৈরি হচ্ছে?