কলকাতার যত্রতত্র বিজ্ঞাপন, পুরসভা ও মেট্রোর কাছে হাইকোর্টের জবাব তলব

শহর কলকাতার সৌন্দর্যায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেআইনি হোর্ডিং এবং বিজ্ঞাপন। হাইকোর্টের নির্দেশ, সরকারি বিজ্ঞপ্তি, এমনকি মেট্রো কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা—কোনো কিছুই এই অবৈধ বিজ্ঞাপন লাগানোর স্রোত আটকাতে পারেনি। এবার এই বিষয়ে আবারও কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একটি নতুন জনস্বার্থ মামলা। এই মামলায় কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে আদালত।
কেন এই জনস্বার্থ মামলা?
কলকাতা ও তার সংলগ্ন শহরগুলিতে যত্রতত্র নিয়ম ভেঙে যেভাবে বিজ্ঞাপন ও হোর্ডিং লাগানো হচ্ছে, তা বন্ধ করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আদালতের পুরোনো নির্দেশ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জারি করা বিজ্ঞপ্তি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না।
আদালত কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি গ্রহণ করেছে। আদালত কলকাতা পুরসভা, নগরোন্নয়ন দফতর এবং মেট্রো রেল-সহ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই হলফনামার মাধ্যমে আদালত জানতে চেয়েছে, কেন আগের নির্দেশগুলো কার্যকর করা হয়নি এবং কেন এখনও এই বেআইনি কার্যকলাপ চলছে।
যেসব নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে:
২০০৮ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ: বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছিল, যা বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
২০১৭ সালের গ্রিন জোন: পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর শহরের কিছু এলাকাকে ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না।
মেট্রোর বিজ্ঞপ্তি: দু’বছর আগে মেট্রোর প্রিন্সিপাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিলেন, মেট্রোর কোনো পরিকাঠামোয় বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। কিন্তু বর্তমানে মেট্রোর স্তম্ভসহ সব জায়গায় বেআইনি বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে।
কিউআর কোড সিস্টেম: ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শহরে বেআইনি বিজ্ঞাপন চিহ্নিত করার জন্য কিউআর কোড সিস্টেম চালু হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্যাপ্টেন ভেড়ির দুর্ঘটনা: গত বছর ক্যাপ্টেন ভেড়িতে একটি হোর্ডিং ভেঙে পড়ার মতো দুর্ঘটনা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো হুঁশ ফেরেনি।
আশা করা যায়, হাইকোর্টের এই কড়া নির্দেশিকা এবার বেআইনি বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে কর্তৃপক্ষকে। শহরবাসীও এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান দেখতে চান।