‘আমরা আধখানা রুটি খাব, তবু মাথা নোয়াব না!’ -আমেরিকাকে কড়া বার্তা মৌলানা মাদানির

মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ প্রভাবশালী সংস্থা জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ-এর সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি এবার সরাসরি আমেরিকা ও ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য নীতি নিয়ে মুখ খুললেন। শুধু তাই নয়, একই সাথে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যেরও প্রশংসা করলেন। তার এই অবস্থান ভারতের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিককালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাওলানা মাহমুদ মাদানি একটি অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারতের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো উচিত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত। আমরা আধখানা রুটি খাব, তবুও মাথা নোয়াব না। কোনও আপস করা উচিত নয়, এমনকি যদি আপস হয়, তবে তা সমান শর্তে হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন যে শুল্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বাধীন সরকারের অবস্থানকে তার সংগঠন পুরোপুরি সমর্থন করে। মাদানির এই মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে দূরে সরিয়ে দেশের সম্মান রক্ষার একটি বার্তা দেয়।

মাওলানা মাহমুদ মাদানি দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। বিশেষ করে, জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরা-কাশী বিরোধ নিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্যকে তিনি ইতিবাচক চোখে দেখেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠন একটি প্রস্তাব পাস করেছে যে একটি সংলাপ হওয়া উচিত। সম্প্রতি, আরএসএস প্রধান জ্ঞানবাপী এবং মথুরা কাশী সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাঁর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করা উচিত। আমরা সব ধরনের সংলাপকে সমর্থন করব।”

উল্লেখ্য, এর আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন যে রাম মন্দিরই একমাত্র আন্দোলন যা সঙ্ঘ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করে এবং তিনি জোর দিয়েছিলেন যে ভারতে ইসলামের স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে। মাদানির এই সমর্থন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভাষার অবনতি নিয়েও মাদানি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা অনুপযুক্ত এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন যে দেশের নাগরিক সমাজ এই হামলা বানচাল করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি আরও বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করা আমাদের কর্তব্য। বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা নীতি পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় ভালো। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আরও পেশাদার হয়েছে।” এই মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত।