“বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান ১৬ জন শিক্ষক”-হুগলির এই শিক্ষাকেন্দ্র সমাজকে দেখাচ্ছে নতুন দিশা

কোভিডকালে যখন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তখন হুগলির খন্যানে এক নতুন শিক্ষাকেন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। এই কেন্দ্রে কোনো বেতন ছাড়াই পড়ান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং সরকারি কর্মীরা। গত পাঁচ বছরে এই শিক্ষাকেন্দ্রটি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।
২০২০ সালে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে খন্যান ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে বরেন্দ্রনাথ রায় তার বাবার বসতবাড়িতে এই শিক্ষাকেন্দ্রটি খোলার সিদ্ধান্ত নেন। বাবার স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য বরেন্দ্রনাথ পাঁচজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু করেছিলেন এই ‘মুল্টি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র’। প্রাথমিকভাবে একজন শিক্ষক এলেও, বর্তমানে এখানে ১৬ জন শিক্ষক পাঠদান করেন, যাদের অধিকাংশই কোনো পারিশ্রমিক নেন না।
বর্তমানে এই শিক্ষাকেন্দ্রে ৭০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। শিক্ষকদের মধ্যে ৬ জন প্রাক্তন শিক্ষক এবং ৩ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী রয়েছেন। এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানেরই প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী এখন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। এই ১১ জন শিক্ষক কোনো অর্থ নেন না। বরেন্দ্রনাথ, যিনি নিজে একজন প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী, বাকি পাঁচজন শিক্ষককে সামান্য পারিশ্রমিক দিয়ে সাহায্য করেন।
শিক্ষাকেন্দ্রটি প্রথমে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করত। বর্তমানে এটি সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়ায়। এখানে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব বিষয় এবং উচ্চ মাধ্যমিকের কলা বিভাগ পড়ানো হয়।
এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আশিস দত্ত বলেন, “অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে আছে, যাদের বাড়িতে পড়াশোনা শেখানোর মতো কেউ নেই। আমরা তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি।” তিনি জানান, তারা যেমন শিক্ষার্থীদের থেকে কোনো বেতন নেন না, তেমনই কোনো পারিশ্রমিকও নেন না। বরং বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত পেন ও খাতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা হয়।
এই শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সম্মান জানাতে চায়। প্রতি বছর শিক্ষক দিবসে তারা বেলুন ও রঙিন কাগজ দিয়ে শিক্ষাকেন্দ্রটি সাজিয়ে তোলে, কেক কাটে এবং শিক্ষকদের পেন ও গোলাপ দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।