আসছে ‘ডিজিটাল হীরা’, ভারতে তৈরি হবে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম চিপ, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষুদ্রতম চিপ ভারতেই তৈরি হবে— এই আশার কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ সম্মেলনের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম চিপ ভারতে তৈরি হবে এবং সারা বিশ্ব তাকে বিশ্বাস করবে।” এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে ইসরো (ISRO)-র তৈরি সেমিকন্ডাক্টর চিপ ‘VIKRAM3201’ তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই চিপটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবে তৈরি হয়েছে।

‘ডিজিটাল হীরা’ बनाम ‘কালো সোনা’
ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী সেমিকন্ডাক্টরকে ‘ডিজিটাল হীরা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “তেল হচ্ছে কালো সোনা, আর চিপ হলো ডিজিটাল হীরা। গত শতাব্দীতে পৃথিবীকে গড়েছিল তেল, কিন্তু একুশ শতকের সব শক্তি নিহিত আছে একটি ক্ষুদ্র চিপের মধ্যে।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার বর্তমানে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা আগামী বছরগুলোতে ১ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। ভারত যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই বাজারে ভারতের উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বের কাছে ভারতের বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনার আবহে প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনো দেশের নাম না নিয়েই বলেন, “এমন একটা সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের পরিস্থিতি রয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার কারণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তখন ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, অর্থনৈতিক বাধা সত্ত্বেও ভারত নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না।

সেমিকন্ডাক্টর মিশনে অগ্রগতি
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের আওতায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ। পাশাপাশি, ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক চিপ বাজার ধরতে ডিজাইন সম্পর্কিত উৎসাহ ভাতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।

‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি দেশের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনের এই সম্মেলন ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই সম্মেলন ভারতের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে।