পিছিয়ে যাবে কি পরীক্ষা?-চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের ভরসা এবার সুপ্রিম কোর্ট

২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের রায় সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখার পরও, চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা এখনও আশা ছাড়েননি। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে তাদের একটি ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’-এর (SLP) শুনানি হওয়ার কথা। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই শুনানি হবে।
কেন নতুন করে মামলা?
‘যোগ্য’ শিক্ষকদের দাবি, নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু পুরনো নিয়ম বদলে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য অন্যায়। তারা বলছেন:
- শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তন: ২০১৬ সালের পরীক্ষায় যারা স্নাতকে ৪৫% নম্বর নিয়ে বিএড করে চাকরি পেয়েছিলেন, নতুন নিয়মে তাদের জন্য স্নাতকে ৫০% নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- স্পেশাল বিএডদের বাদ দেওয়া: ২০১৬ সালের নিয়োগে স্পেশাল বিএডরা সুযোগ পেলেও, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাদের জন্য কোনো পদ রাখা হয়নি।
- পদ অবলুপ্তি: ভৌতবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স এবং ভূগোলের মতো কিছু বিষয়ে সংরক্ষিত পদগুলো নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে বহু যোগ্য শিক্ষক আবেদন করার আগেই চাকরি থেকে বাদ পড়ে গেছেন।
এই ধরনের প্রায় ১২০০-র বেশি শিক্ষক এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
পরীক্ষা পেছানোর আবেদন
চাকরি হারানো এক শিক্ষিকা সঙ্গীতা সাহা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কিন্তু নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষার জন্য মাত্র ১৭-১৮ দিন এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য ২৫ দিন বাকি। এই অল্প সময়ে নতুনদের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য খুবই কঠিন, কারণ তারা এত দিন নিয়মিত স্কুলে ক্লাস নেওয়া, খাতা দেখা, এবং অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই স্পেশাল লিভ পিটিশনে পরীক্ষা পেছানোর জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
‘যোগ্য’ শিক্ষকদের আশা, সুপ্রিম কোর্ট তাদের এই সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেবে এবং ন্যায়বিচার করবে।