মোদির এক ঘোষণাতেই কমে যাচ্ছে দাম! কোন কোন দ্রব্যের দাম কমতে পারে? জেনেনিন

দেশের 79তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিএসটি (GST) সংস্কারের একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “এই দিওয়ালিতে দেশবাসীকে বড় উপহার মিলবে।” মোদির এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে আশা জেগেছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দাম কমে যাবে।

জিএসটি সংস্কারের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান যে গত আট বছরে জিএসটির বড় সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু সময়ের দাবি মেনে এবার নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। হাই-পাওয়ার কমিটির মাধ্যমে এই পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলির সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জিএসটি সংস্কার আনতে চলেছি, যা এই দিওয়ালির মধ্যেই উপহার হয়ে আসবে। এর ফলে করের হার অনেকটাই কমে যাবে এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) উপকৃত হবে।”

কোন কোন জিনিসের দাম কমতে পারে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই জিএসটি সংস্কারের পর বেশ কিছু জিনিসের দাম কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার: এই দুটি জিনিসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিমেন্ট ও রেডি-মিক্স কংক্রিট: নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত এই পণ্যগুলোর দাম কমলে আবাসন শিল্পে গতি আসতে পারে।

জুতো, সেরামিক, টাইলস: এই জিনিসগুলোও দাম কমার তালিকায় রয়েছে।

গাড়ি: ২৮ শতাংশ স্ল্যাব বাতিল হলে গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য: টুথপেস্ট, সাবান, তেল, টুথ পাউডার, সাইকেল, বাসনপত্র ইত্যাদির দামও কমতে পারে।

গৃহস্থালী সরঞ্জাম: এসি, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, টিভি ইত্যাদির দামও কমে ১৮ শতাংশে চলে আসতে পারে।

দুটি স্ল্যাব বাতিলের সম্ভাবনা
বর্তমানে ভারতে জিএসটি চারটি ভাগে কার্যকর রয়েছে: ৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন নিয়মে ১২% এবং ২৮% স্ল্যাব বাতিল করা হতে পারে। এতে ১২ শতাংশের অধীনে থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য ৫ শতাংশের আওতায় চলে আসবে এবং ২৮ শতাংশের অধীনে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য ১৮ শতাংশের আওতায় আসতে পারে। এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা
জিএসটি সংস্কারের পাশাপাশি ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-রও ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের আওতায় যারা বেসরকারি খাতে তাদের প্রথম চাকরি শুরু করবেন, সরকার থেকে তাদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই কৃষকদের সঙ্গে আপস করবে না।