সফল ব্যক্তিদের সকালের রুটিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক জেনেনিন এবার আপনিও

পৃথিবীর খ্যাতনামা সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের কোনো ধরাবাঁধা গোপন সূত্র নেই। তাদের মূল রহস্য হলো সময়ের সঠিক ও পূর্ণ ব্যবহার। তাই সাধারণ মানুষের দিন শুরু হওয়ার আগেই, সফল ব্যক্তিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি গুছিয়ে ফেলেন। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ তালহা বিন জসিম।

সফল ব্যক্তিদের সকালের রুটিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নির্দিষ্ট সময়ে খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা:

সফল ব্যক্তিরা সময়ের মূল্য বোঝেন। তাই তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন এবং অলসতা পরিহার করে ভোরের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগান। উদাহরণস্বরূপ, পেপসিকোর প্রাক্তন সিইও ইন্দ্রা নুয়ি ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে সকাল ৭টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতেন। ওয়াল্ট ডিজনির সিইও বব আইগার সাড়ে ৪টায় এবং টুইটারের প্রাক্তন সিইও জ্যাক ডরসি ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ঘুম থেকে ওঠেন।

২. ঘুম থেকে উঠেই জল পান:

ঘুম থেকে উঠেই এক বা দুই গ্লাস জল পান করা সফল ব্যক্তিদের একটি সাধারণ অভ্যাস। বিখ্যাত পত্রিকা হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান্না হাফিংটন ঘুম থেকে উঠে লেবু মেশানো গরম জল পান করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে জল পান করলে শরীরের বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয় এবং শরীর সতেজ অনুভব করে।

৩. শয়নকক্ষ পরিপাটি করা:

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছানো বা মশারি তোলার মতো ছোট কাজগুলি ফেলে রাখেন। কিন্তু সফল ব্যক্তিরা ঘুম থেকে উঠেই তাদের শয়নকক্ষ গুছিয়ে ফেলেন। এটি দিনের অনেকটা সময় বাঁচায় এবং কর্মব্যস্ত দিনের শেষে পরিচ্ছন্ন ঘর মানসিক শান্তি এনে দেয়।

৪. আলো ফোটার আগে শরীরচর্চা:

অধিকাংশ সফল ব্যক্তি সকালের নাস্তার আগে শরীরচর্চা করেন। তবে অবশ্যই শরীরচর্চার পর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে।

৫. প্রাতঃস্নান:

সকালের একটি সতেজ স্নান আপনাকে সারাদিন প্রাণবন্ত রাখতে পারে। তাই নাস্তার আগে সময় নিয়ে পরিষ্কারভাবে স্নান করে নিন।

৬. মানসিক শান্তির জন্য মেডিটেশন:

অনেক সফল ব্যক্তি সকালে মানসিক প্রশান্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধির জন্য মেডিটেশন এবং ধর্মীয় আচার পালন করেন। সকালে মেডিটেশন করলে সারাদিনের কাজে মনোযোগ বাড়ে। এই সময় অনুপ্রেরণামূলক বই বা মুভিও দেখা যেতে পারে। বিল গেটস প্রতিদিন নিজেকে উৎসাহিত করার জন্য এই কাজটি করেন।

৭. গুরুত্বপূর্ণ কাজ সকালে সম্পন্ন করা:

সফল ব্যক্তিরা তাদের সবচেয়ে জটিল এবং মনোযোগের প্রয়োজনীয় কাজটি সকালের দিকে সেরে ফেলেন। কারণ এই সময়ে পরিবেশ শান্ত থাকে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা যায়। পরিবারের সদস্যরাও ঘুমিয়ে থাকায় মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে না। অফিসেও সকালে কলিগ বা বসের ঝামেলা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি গুছিয়ে নেওয়া যায়।

৮. পছন্দের কাজ সকালে করা:

কারও হয়তো গল্প-উপন্যাস লিখতে ভালো লাগে, আবার কারও সফটওয়্যার বানানোর নেশা। সফল ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের বা আগ্রহের কাজগুলি সকালের দিকে করেন। এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ বা চিন্তাভাবনা লিখে রাখার মতো অভ্যাস সকালে করাই ভালো। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন প্রতিদিন সকালের এক ঘণ্টা শুধু লেখালেখি ও পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতেন।

৯. পরিবারের সাথে মানসম্মত সময় কাটানো:

ব্যস্ত জীবনে অনেক সফল ব্যক্তিরই পরিবারের সাথে সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তারা সকালের সময়টা পরিবারের সাথে কাটান। এটি হতে পারে একসাথে নাস্তা তৈরি করা, বাচ্চাদের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, বাবা-মায়ের সাথে কথা বলা বা পারিবারিক আয়-ব্যয় নিয়ে আলোচনা করা। এমনকি পোষা প্রাণীর পরিচর্যাও করা যেতে পারে।

১০. আত্মসমালোচনা ও নোট রাখা:

সফল ব্যক্তিরা প্রতিদিন সকালে গতকালকের করা কাজগুলি নিয়ে ভাবেন। কোন কাজগুলি তাদের আনন্দ দিয়েছে, কোনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হয়নি এবং কেন হয়নি, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করেন। নিজের জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পথে তারা কতটা এগিয়েছেন, তা লিখে রাখেন। ভালোভাবে কাজ সম্পন্ন হলে নিজেকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১১. সারাদিনের পরিকল্পনা তৈরি করা:

দিনের শুরুতে সফল ব্যক্তিরা তাদের সারাদিনের কাজের তালিকা তৈরি করে নেন। কোন কাজ কখন করতে হবে, কার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে এবং তার জন্য কী প্রস্তুতি নিতে হবে, তা নির্ধারণ করে ফেলেন। দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজান।

১২. সংবাদপত্র পাঠ:

পৃথিবীতে এবং দেশের অভ্যন্তরে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে অবগত থাকা সফল ব্যক্তিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। সংবাদপত্র পড়া বা সকালে সংক্ষেপে খবর দেখার মাধ্যমে তারা নিজেদের আপডেট রাখেন।

১৩. নেটওয়ার্কিং লাঞ্চের পরিবর্তে ব্রেকফাস্ট:

বেশিরভাগ সফল ব্যক্তি তাদের সকালের নাস্তা এমন ব্যক্তিদের সাথে করেন, যাদের সাথে ভবিষ্যতে কাজের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুপুরের খাবারের চেয়ে সকালের আলোচনায় ভালো ফল পাওয়া যায় বলে তারা মনে করেন। সপ্তাহে একদিন এমন নেটওয়ার্কিং ব্রেকফাস্টের আয়োজন করা যেতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, সফল ব্যক্তিদের এই অভ্যাসগুলো হয়তো আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহারে এগুলোই তাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।