“ভোটচুরি’র অভিযোগ ভিত্তিহীন, নির্বাচন কমিশনকে বদনামের চেষ্টা”, রাহুলকে পাল্টা বিজেপির

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ‘ভোটচুরি’র অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর’ বলে পাল্টা আক্রমণ শানাল বিজেপি। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির আঁতাতের মাধ্যমে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগেই এই অভিযোগের জবাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিল, এবার বিজেপির পক্ষ থেকেও একই সুরে আক্রমণ করা হলো।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৫টি আসনে ভোট চুরি করেছেন, যেখানে হার-জিতের ব্যবধান ছিল ৩৩ হাজারের কম। তিনি কর্ণাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভার ভোটার তালিকার বিভিন্ন ত্রুটির কথা তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র ওই একটি কেন্দ্রেই এক লক্ষেরও বেশি ভোট চুরি হয়েছে। তিনি এই কেন্দ্রে ডুপ্লিকেট, ভুয়ো এবং এক ঠিকানায় একাধিক ভোটারের পাশাপাশি ফর্ম ৬-এর অপব্যবহারের অভিযোগও আনেন।

যদিও রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিজেপি। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধী এবং তাঁর টিমের এই গবেষণা পুরোটাই ভিত্তিহীন। এর কোনো অর্থ নেই। পুরোটাই নির্বাচন কমিশনকে বদনাম করার চেষ্টা।” রিজিজু প্রশ্ন তোলেন, “ওরা যখনই হারে তখনই কমিশনকে দোষ দেয়। এই কংগ্রেসই মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানায় লোকসভায় জেতার পর কমিশনকে বাহবা দিত, কিন্তু বিধানসভায় হারতেই কমিশনের দোষ। আসলে সবটাই করা হচ্ছে কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্টের লক্ষ্যে।”

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও নির্বাচন কমিশনের সুরেই রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী যে ভুয়ো ভোটারের দাবি করছেন, সেই তালিকা হলফনামা আকারে কমিশনে জমা দিতে হবে। যদি তিনি তা না পারেন, তাহলে প্রমাণিত হবে যে বিরোধী দলনেতা মিথ্যা কথা বলে দেশকে বিভ্রান্ত করছেন। মালব্য আরও বলেন, মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বপন করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস তাদের অভিযোগের পক্ষে অনড় থাকলেও, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে।