ব্ল্যাকমেলের পরিণতি খুন, মহারাষ্ট্রে প্রেমিকার দাবিতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবক খুন করে দেহ ফেলে দিল খাদে!

ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার জেরে প্রেমিকাকে পাথর দিয়ে আঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের দৌলতাবাদে। খুনের পর অভিযুক্ত প্রেমিকের দেহ একটি খাদে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত সুনীল খান্ডাগল নিজেই শিরুর পুলিশ চৌকিতে গিয়ে তার অপরাধ স্বীকার করে। দৌলতাবাদ থানার পুলিশ আধিকারিক রেখা লোন্ডে বলেন, “পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। মৃত ওই তরুণী ধর্ষণের মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল বলে দাবি অভিযুক্তের। নিহতের নাম দীপালি আসোয়ার (১৯)। ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
রেখা লোন্ডে আরও জানান, সুনীল এবং দীপালি দু’জনেই বৈজাপুর তহসিলের মান্ডকিতে থাকতেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি দীপালি কন্নড় তহসিলে তার বোনের বাড়িতে থাকছিল। বৃহস্পতিবার সুনীল দীপালির সঙ্গে দেখা করতে কন্নড় যায়। সেখান থেকে তারা দু’জনে সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে সন্ধ্যায় দৌলতাবাদ ঘাটে পৌঁছয়। সেখানেই তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঝগড়ার এক পর্যায়ে দীপালি সুনীলের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করে। সুনীল টাকা দিতে অস্বীকার করলে দীপালি তাকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই হুমকি শুনে সুনীল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানেই দীপালির মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের পর দীপালির দেহ খাদে ফেলে দিয়ে সুনীল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে শিরুর থানায় গিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীপালির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ সুনীলকে গ্রেফতার করে এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পরকীয়া সম্পর্ক, অর্থ দাবি এবং ব্ল্যাকমেলের জেরে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।