রাজস্থানে শোকের মাতম, স্কুল দুর্ঘটনায় দুই সন্তানকে হারিয়ে মায়ের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ, গাফিলতির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

দু’দিন আগেও রাজস্থানের ঝালাওয়ারের একটি বাড়ির উঠোনে ভাই-বোনের হাসির শব্দ ভেসে বেড়াতো। কিন্তু আজ সেখানে শুধুই শোক আর নিস্তব্ধতা। শুক্রবারের মর্মান্তিক স্কুল দুর্ঘটনায় (Rajasthan School Building Collapses) ১২ বছরের মীনা ও তার ছয় বছরের ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মায়ের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ, “ভগবান আমাকে কেন নিয়ে নিলেন না।”

শনিবার সকালে নিহত সাতজন শিশুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে পাঁচজনকে একসঙ্গে দাহ করা হয়েছে। ঝালাওয়ারের এসআরজি হাসপাতালের মর্গের সামনে উপস্থিত সকলেরই মন ভার হয়ে ওঠে শোকস্তব্ধ মায়েদের হাহাকার শুনে। শিশুরা যখন তাদের মৃত সন্তানকে শেষবারের মতো আঁকড়ে ধরছিল, সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের চোখে জল এনে দেয়। কেউ কেউ নিঃশব্দে শোক পাথর হয়ে বসেছিলেন।

একজন শোকাহত মা প্রশ্ন তুলেছেন, “শিক্ষকেরা বাইরে কী করছিলেন? কেন তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন?” এই প্রশ্ন আরও গভীর করে তুলেছে শিক্ষকদের গাফিলতির অভিযোগকে।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ:

শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন রাজস্থানের পিপলোদি সরকারি স্কুলের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়লে সাতজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয় এবং আহত হয় কমপক্ষে ২৭ জন। এই ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

স্কুল পড়ুয়াদের কথায়, দুর্ঘটনার (Rajasthan School Building Collapses) ঠিক আগে থেকেই ছাদ থেকে ছোট ছোট পাথরের টুকরো এবং ধুলো পড়তে দেখা গিয়েছিল। তারা দ্রুত এই কথা শিক্ষকদের জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময় শিক্ষকরা সকালের জলখাবার খাচ্ছিলেন এবং পড়ুয়াদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে তাদের বকাঝকা করে আবার ক্লাসে গিয়ে বসতে বলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাদ ভেঙে পড়লে বেশ কয়েকজন ছাত্র ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়। অনেকে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

ঘটনার পর পরই পাঁচজন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর গাফিলতি’র অভিযোগ আনা হয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এর আগেই রাজ্যে সমস্ত পুরনো স্কুল ভবনগুলি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল এবং কোথাও সমস্যা থাকলে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।