টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতার জনজীবন! ভাঙল বাড়ি, জল জমে বেহাল অবস্থা রাস্তার

নিম্নচাপের প্রভাবে রাতভর একটানা বৃষ্টির জেরে কলকাতার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, একাধিক স্থানে গাছ উপড়ে গেছে এবং এমনকি বাড়ি ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে। সকাল থেকে শহরের নানা প্রান্তে জল জমার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
রাতভর ভারী বর্ষণে ধর্মতলা, পোস্তা, বড়বাজার, কৈখালি, দমদম সহ কলকাতার একাধিক এলাকা জলের তলায় চলে গেছে। এজেসি বোস রোড উড়ালপুলের একাংশেও জল জমেছে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধাপায় সবচেয়ে বেশি ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও, উল্টোডাঙায় ১০১ মিলিমিটার, মানিকতলায় ৯৭ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৭৯ মিলিমিটার এবং ঠনঠনিয়ায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বালিগঞ্জে ৭০ মিলিমিটার, বীরপাড়ায় ৫৫ মিলিমিটার এবং বেলগাছিয়ায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজও দিনভর কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবল বর্ষণে কলকাতার রাস্তাঘাট জলের নীচে চলে যাওয়ায় শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জল নির্গমনের পথে বাধা থাকার কারণে জল জমে যাওয়ার এই ভোগান্তি নতুন কিছু নয়, বরং এটি বছরের পর বছর ধরে কলকাতার এক পুরোনো সমস্যা। নাগরিকরা অভিযোগ করছেন, বারবার এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) সূত্রে খবর, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গে অবশ্য শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এই নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল হবে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের ২৮শে জুলাই, সোমবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশ ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। আগামী দু’দিনের মধ্যে এটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে উত্তর ওড়িশা হয়ে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের দিকে চলে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নিচু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মৌসুমী অক্ষরেখা লুধিয়ানা, মুজাফফরনগর, বরেলি, গোরখপুর, মুজাফফরপুর, আসানসোলের উপর দিয়ে দক্ষিণ পূর্ব দিকে গিয়ে নিম্নচাপের এলাকা অর্থাৎ উত্তর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যভাগে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বড় অংশ এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন।