‘লাপাতা লেডিস’-র গল্প বাংলা মেগায়? বউ বদলের নতুন গল্পে টেলিভিশন জগতে আসছে নতুন মোড়

বাংলা টেলিভিশনের সিরিয়াল জগতে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা। দর্শকদের ধরে রাখতে পুরোনো ধারাবাহিকের গল্পে আসছে নতুন মোড়, বদলাচ্ছে সম্প্রচারের সময়সূচিও। অনেক মেগাই অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে আসছে একের পর এক নতুন ধারাবাহিক। এই তালিকায় এবার নাম জুড়তে চলেছে জি বাংলার নতুন মেগা ‘কনে দেখা আলো’, যা ছোট পর্দায় নিয়ে আসছে ‘বউ বদলের’ এক ভিন্নধর্মী গল্প।

জানা যাচ্ছে, কিরণ রাওয়ের জনপ্রিয় বলিউড ছবি ‘লাপাতা লেডিস’-এর গল্পের কিছুটা আদলেই তৈরি হচ্ছে এই নতুন বাংলা সিরিয়াল। ‘কনে দেখা আলো’ দেখাবে শহুরে মেয়ে বনলতা আর গ্রামের সহজ সরল লাজবন্তীর জীবন কীভাবে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে ওলটপালট হয়ে যায়। ভাগ্যের ফেরে তাদের বিয়ের পর দুজনের ভালোবাসার ঠিকানা বদলে যায়। ভবিষ্যতে সঠিক জায়গায় ফিরে এলেও, তারা বুঝতে পারে যে সব কিছুই অনেকটাই পাল্টে গেছে এবং তাদের মন ফেলে এসেছে পুরোনো ঠিকানাতেই। ভালোবাসার এই বাসা বদল এবং দুই নারীর জীবন বদলে যাওয়ার টানাপোড়েনের গল্পই হবে ‘কনে দেখা আলো’-র মূল উপজীব্য।

এই নতুন ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা সোমরাজ মাইতি, সাইনা চট্টোপাধ্যায়, নন্দিনী দত্ত এবং মৈনাক ঢোল-কে। এছাড়াও টলিউডের আরও একঝাঁক পরিচিত মুখ এই মেগায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন। বিশেষত উল্লেখযোগ্য, প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা সাইনা এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রথমবার মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন। অন্যদিকে, এই মেগার হাত ধরেই প্রথমবার মুখ্য চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছেন মৈনাক ঢোল, যিনি এর আগে ‘মিঠিঝোরা’ ধারাবাহিকে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রায় আট বছর পর জি বাংলার পর্দায় ফিরলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সোমরাজ মাইতি।

বোলপুরে ‘কনে দেখা আলো’-র প্রোমো শ্যুট ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী আগস্ট মাস থেকেই এই ধারাবাহিকের মূল শ্যুটিং শুরু হবে। সাধারণত, নতুন কোনো ধারাবাহিক শুরু হওয়ার অর্থ হলো পুরোনো কোনো মেগার ওপর তার প্রভাব পড়া – হয় সেটি বন্ধ হয়ে যায়, নয়তো তার সম্প্রচারের সময় বদলে যায়। ‘কনে দেখা আলো’ কোন স্লটে সম্প্রচারিত হবে তা এখনও জানা যায়নি। ফলে, কোন ধারাবাহিক শেষ হবে বা কোনটির সময় পরিবর্তিত হবে, তা জানতে দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এই নতুন ধরনের গল্প বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কতটা টানতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।