বিহারের ১ লক্ষ ভোটারের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে বিতর্ক

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় এই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ‘এসআইআর’-এর পর বিহার জুড়ে ৫৬ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, বেছে বেছে ভোটার বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, শাসক দলের সুবিধা করে দিতেই এই ‘গণ-ছাঁটাই’ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম হঠাৎ করে বাদ দেওয়ার পিছনে কমিশনের স্বচ্ছতা কোথায়? উল্লেখ্য, এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার শুনানি চলতি সপ্তাহেই হওয়ার কথা। এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশনের সাফাই

যদিও নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার কারণ হলো: প্রায় ২০ লক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম, ২৮ লক্ষ মানুষ যারা অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন, ৭ লক্ষ ভোটারের নাম যারা একাধিক স্থানে আছে এবং প্রায় ১ লক্ষ ভোটারের কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও, আরও প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটার তাদের যাচাইকরণ ফর্ম ফেরত দেননি, ফলে ভোট শুরু হওয়ার আগে তাদের নামও বাদ পড়তে পারে। কমিশন জানিয়েছে, বিহারে ৭.১৭ কোটি মানুষের গণনা ফর্ম গ্রহণ ও ডিজিটাইজ় করা হয়েছে।

সংসদে আলোচনা নাকচ

অন্যদিকে, এই বিতর্ক শুধুমাত্র রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর আঁচ পৌঁছেছে সংসদেও। বিরোধীরা এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুললেও কেন্দ্র তা খারিজ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিহারে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। এখন সবার নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে, কারণ তাদের রায়ই হয়তো এই বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটাবে।