“৪৫ বছর কেটে গেছে কিন্তু তাও…”, মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর

কিছু কিছু মানুষ তাদের কাজের মাধ্যমে স্মৃতির মনিকোঠায় চিরকাল বেঁচে থাকেন। তেমনই একজন মানুষ হলেন মহানায়ক উত্তম কুমার। ৮ থেকে ৮০, সকলের কাছেই তিনি প্রিয় অভিনেতা। তাই হয়তো সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। তিনি বাঙালি হৃদয়ের এমন এক নায়ক, যাকে চেনেন না বা ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল।
দেখতে দেখতে তাঁর চলে যাওয়ার ৪৫ বছর কেটে গেল। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে তিনি এমন কিছু সিনেমা উপহার দিয়েছেন, যা আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর ছবি দেখে মুগ্ধ হয়। মহানায়কের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান। তিনি লেখেন, “মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা। ওঁর মৃত্যুর ৪৫ বছর কেটে গেছে কিন্তু তাও তাঁর প্রতি আমাদের অনুরাগ বিন্দুমাত্র কমেনি।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি গর্বিত, সিনেমায় এবং বাঙালি মননে উত্তম কুমারের অনন্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০১২ সাল থেকে বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীদের স্বীকৃতি জানানোর জন্য মহানায়ক সম্মান চালু করেছে আমাদের সরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করে ‘মহানায়ক উত্তম কুমার’ রেখেছিলেন। এছাড়াও, উত্তম কুমারের নামে থাকা উত্তম মঞ্চকেও নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পরিশেষে তিনি লেখেন, “উত্তম কুমার বাঙালির স্বপ্নের মহানায়ক, চিরকালীন ভালোবাসা। তাঁর মৃত্যুদিনে আমি আরও একবার তাঁকে আমার প্রণাম জানাই।”
মহানায়ক উত্তমকুমার-এর মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা।
আমাদের সবার মনের মণিকোঠায় আজও উত্তমকুমার বাঙালির চিরন্তন ম্যাটিনি আইডল। তাই তাঁর মৃত্যুর পর ৪৫ বছর কেটে গেলেও, তাঁর প্রতি অনুরাগ আমাদের কিন্তু এতটুকুও কমেনি।
আমি গর্বিত, সিনেমায় ও বাঙালি মননে…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) July 24, 2025
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ। এই সমস্ত আয়োজনগুলো আরও একবার প্রমাণ করে যে বাঙালির মনে মহানায়ক উত্তম কুমার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।