ধনকরের ইস্তফায় নাটকীয় মোড়, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ রাজনাথের সাহায্যও মেলেনি!

দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও ঘনীভূত হয়েছে। হঠাৎ করেই তার সরে দাঁড়ানোর পেছনে ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণ মানতে নারাজ বিরোধীরা। সংসদীয় সূত্র থেকে উঠে আসা একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং সরকারের শীর্ষ মহলের চাপেই শেষ পর্যন্ত নিজের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি যশবন্ত বর্মার ইম্পিচমেন্ট ইস্যুতে রাজ্যসভার বিজ়নেস অ্যাডভাইজ়রি কমিটির (বিএসি) বৈঠকে বিরোধীদের আনা প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে সরকারের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ দেখা যায়। সূত্র মারফৎ জানা যায়, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ধনখড় শেষ পর্যন্ত বিজেপির ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ফোন করেও কোনো সাহায্যের আশ্বাস পাননি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধও নাকচ হয়ে যায়। উভয় জায়গা থেকেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এটি সরকারের শীর্ষ মহলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং পদত্যাগই একমাত্র পথ।
এমনকি, পদত্যাগের আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তার সাক্ষাতের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ছিল ধনখড়ের রফাসূত্র খোঁজার শেষ চেষ্টা। কিন্তু কোনো দরজাই খোলা না থাকায়, সেদিন রাত ৯টার পরেই তিনি পদত্যাগ করেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
বিরোধীদের গুরুতর অভিযোগ ও জল্পনা
এই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তার দাবি, “জগদীপ ধনখড়কে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে তার বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এটা একটা প্রেশার ট্যাকটিক্স।” তিনি আরও জল্পনা উসকে দিয়ে বলেন যে, রাজনাথ সিংকেই হয়তো পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি পদে বসানো হতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপি সূত্র বলছে, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে ধনখড় ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ আদালতের এখতিয়ার নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উভয়ই প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট ছিলেন। এমনকি আরএসএস-ও এই বিষয়ে তার ওপর রুষ্ট ছিল বলে খবর।
পদত্যাগের পর থেকে ধনখড় নিজে কোনো মন্তব্য না করায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে ফোন করেছিলেন এবং পরে জানান, ধনখড় ভালো আছেন।
ভবিষ্যতের পথ
এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে এবং নির্বাচনের দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে। বিজেপি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকেই এই পদে বসাবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ এবং এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা আগামী দিনেও জারি থাকবে।