মোদীর পাশাপাশি তাঁর ছবি সরকারি অফিসে টাঙানো হোক, চেয়েছিলেন ধনখড়!

ভারতের উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফার পর রাজনৈতিক মহলে তাঁর সঙ্গে সরকারের সংঘাত নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে সরকার বা ধনখড়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, কিন্তু বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, অতীতে একাধিক ইস্যুতে দু’পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য হয়েছিল। এরই মাঝে একটি নতুন রিপোর্টে সেই সংঘাতের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, জগদীপ ধনখড় চেয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি অফিসে তাঁর ছবিও টাঙানো হোক। শুধু তাই নয়, তিনি নিজের জন্য মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ব্যবস্থা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি বা তাঁর দফতর থেকে এই ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি করা হয়েছিল কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে যে, ধনখড় রাষ্ট্রপতির মতো প্রোটোকল দাবি করতেন। অভিযোগ উঠেছে যে বিদেশ সফরের সময় তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতির সমতুল্য মর্যাদা পাওয়ার প্রত্যাশা করতেন। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এই কারণে বেশ কয়েকবার সরকারি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল। হোটেলের ঘর থেকে শুরু করে বিমান, অনেক ক্ষেত্রেই তিনি মনে করতেন যে তাঁকে সঠিক সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান সফরে গিয়ে ধনখড় নিজের হোটেলের ঘর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল যে, ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাঁর সম্মানের সঙ্গে মানানসই ঘর দেয়নি। যদিও ভারতীয় দূতাবাস স্পষ্ট করে জানায়, ওই আবাসনের ব্যবস্থা আয়োজক সরকারই করেছিল। ওই সফরের সময়ই তিনি বিমান নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন এবং বলেছিলেন যে উপরাষ্ট্রপতির জন্য আরও বড় বিমান হওয়া উচিত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধনখড়কে একাধিকবার জানানো হয়েছিল যে প্রোটোকলের দিক থেকে অনেক ছোট দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও ভারতের উপরাষ্ট্রপতির চেয়ে বেশি মর্যাদা পান। এই সমস্ত ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে প্রোটোকল এবং মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়ে ধনখড় এবং সরকারের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম টানাপোড়েন চলছিল।

এই সব জল্পনা ও বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে ইলেক্টোরাল কলেজ তৈরির কাজ চলছে এবং দ্রুতই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।