ধান চাষে রাসায়নিক সারের বদলে শুধু এই জিনিসটা জমিতে ছড়িয়ে দিন, ফলন হবে বাম্পার!

কৃষি কাজে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে মাটির স্বাস্থ্য এবং মানুষের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় কৃষি বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের ক্রমাগত জৈব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। বর্তমানে যখন বাংলায় ধান রোয়ার কাজ চলছে, তখন কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান চাষে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সর্ষের খোল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
সর্ষের খোল কেন ব্যবহার করবেন?
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ধান চাষে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সর্ষের খোল ব্যবহার করলে কৃষকরা আরও ভালো ফল পাবেন। সর্ষের খোল মূলত পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার হলেও, ধান ফসলে এটি প্রয়োগ করলে একাধিক উপকারিতা পাওয়া যায়:
গাছের বৃদ্ধি: সর্ষের খোল ব্যবহারে ধান গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
অঙ্কুরের সংখ্যা বৃদ্ধি: এটি ধান গাছের অঙ্কুরের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
কম পোকামাকড়: সর্ষের খোল ব্যবহারে ফসলে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।
পুষ্টির ভান্ডার: সর্ষের খোলে নাইট্রোজেন, বোরন, সালফার, জিঙ্ক, ফসফরাস এবং পটাশের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা গাছের উন্নত বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
উচ্চ ফলন: সর্ষের খোল ব্যবহার করলে ধানে চকচকে ভাব আসবে এবং ধানের ওজন বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে কৃষকরা বিঘাপ্রতি ভালো উৎপাদন পাবেন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
সর্ষের খোল ব্যবহারের দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
১. সরাসরি প্রয়োগ: সর্ষের খোল সরাসরি গুঁড়ো করে জমিতে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
২. তরল সার: খোল জলে ভিজিয়ে পচিয়ে তরল সার হিসাবেও ব্যবহার করা যায়।
কৃষককে প্রথমে জমিতে পর্যাপ্ত জল ঠিক রাখতে হবে। এরপর ৫ থেকে ৭ কেজি সর্ষের খোল নিয়ে ভালো করে গুঁড়িয়ে সারা জমিতে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। ধান রোয়ার আগেও এটি জমিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্ষের খোল ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা শুধু ফসলের উৎপাদনই বাড়াতে পারবেন না, বরং মাটির স্বাস্থ্য এবং পরিবেশও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। এটি একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতি যা জৈব কৃষির প্রসারেও সাহায্য করবে।