“আমি কোনও দিন প্রার্থী হতে চাইনি,”-২৬ এর নির্বাচন নিয়ে ঘুরপথে দিলীপ জানালেন নিজের দাবি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগোচ্ছে, ততই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। যদিও দলের তরফে এখনও কোনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি, তবে দিলীপের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে—তিনি আবারও মেদিনীপুর থেকেই লড়তে চান।

খড়গপুর থেকে মেদিনীপুর, ফের ‘চয়েস’ প্রসঙ্গে দিলীপ
সম্প্রতি একটি সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাকে তিনবার প্রার্থী করা হয়েছিল। আমি নিজে কখনও টিকিট বা পদ চাইনি। তবুও দল দিয়েছে। অমিত শাহ নিজেই বলেছেন, বড় নেতাদের ভোটে দাঁড়াতে হবে। আমি পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে লড়েছি।”

এরপরই তিনি স্পষ্ট করেন, অতীতেও যখন তাঁকে চয়েস জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি প্রথমে খড়গপুর ও পরে মেদিনীপুর চেয়েছিলেন এবং দুই ক্ষেত্রেই জিতেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল, তখন সেই জায়গাটি তাঁর পছন্দ ছিল না বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন। ফলাফলও তার প্রতিফলন—সেই কেন্দ্রে তিনি হেরে যান।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন?
বর্ধমান-দুর্গাপুরে হার এবং সেই কেন্দ্রের টিকিট নিয়ে অসন্তোষের পর দিলীপ ঘোষের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। এমনকি তাঁকে তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনে দেখা গিয়েছিল, যা দলীয় মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছিল।

শমীক ভট্টাচার্য অধ্যায়ে দিলীপের নতুন সক্রিয়তা
তবে নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের দিলীপ ঘোষকে ঘন ঘন রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যাচ্ছে। শমীকের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক এবং দিল্লিতে নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই তিনি ফের বিজেপির অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বক্তব্য রাখছেন এবং খড়গপুর, মেদিনীপুর অঞ্চলে তৎপরতা বাড়িয়েছেন।

ভোট যুদ্ধের আগে দিলীপের ঘুঁটি সাজানো
দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু দিলীপ ঘোষ তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছেন—মেদিনীপুরই তাঁর পছন্দ। ২১ জুলাই খড়গপুরের সভা হোক বা বুধবারের সাংবাদিক বৈঠক—সব জায়গাতেই বার্তা স্পষ্ট, এবার তিনি নিজের ‘চয়েস’ অনুযায়ী কেন্দ্র পেতে চান। এবং তা না হলে, ফল ভাল হবে না—এ হুঁশিয়ারিও যেন পরোক্ষে দলকে দিয়ে গেলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু দিলীপ ঘোষের ইচ্ছার প্রকাশ নয়, এটি বিজেপির অন্দরেও একটি বার্তা—প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ভেবেচিন্তে চলতে হবে, না হলে রাজনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য।

এখন দেখার, দিলীপ ঘোষের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা ২০২৬ সালের বিজেপির প্রার্থী তালিকায় কী প্রভাব ফেলতে পারে।