কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসে ‘নিখোঁজ’ হলেন ক্যানসার আক্রান্ত বাংলাদেশি তরুণ! দিশেহারা পরিবার

কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসে হুগলির ব্যান্ডেল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হলেন এক ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণ। নিখোঁজ তরুণের নাম নিলয় সাহা, বাড়ি বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার পালং থানার গঙ্গানগর গ্রামে। ক্যানসার আক্রান্ত এই তরুণের বাম পা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ক্রাচের সাহায্যে হাঁটাচলা করেন। তাঁর এমন অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবার ও আত্মীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
গোপীনাথপুর ঠাকুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ
জানা গেছে, নিলয় সাহা কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। চিকিৎসার সুবিধার জন্য গত ২ জুলাই তিনি ব্যান্ডেলের কেওটা নবপল্লিতে তাঁর দিদির বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁর পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিদির বাড়িতেই রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিলয় তাঁর দুই দিদির সঙ্গে চুঁচুড়ার গোপীনাথপুর ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে।
অসুস্থ অবস্থায় অপরিচিত পথে, দিশেহারা পরিবার
নিলয়ের আত্মীয়রা বুঝে উঠতে পারছেন না, এই শারীরিক অবস্থায় তিনি কোথায় গেলেন বা তাঁর কী হলো। তাঁর জামাইবাবু শঙ্কর নাগ জানিয়েছেন, নিলয়ের এখানে পথঘাট একেবারেই চেনা নেই। এই অবস্থায় তিনি কোনো ট্রেনে উঠে অন্যত্র চলে গেলেন কিনা, সেই আশঙ্কায় ব্যান্ডেল জিআরপি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, চুঁচুড়া থানাতেও নিখোঁজের অভিযোগ জানানো হবে বলে শঙ্কর নাগ জানিয়েছেন।
ক্যানসার আক্রান্ত, চলাফেরায় ক্রাচের ব্যবহার
নিলয় সাহা গত বৈশাখ মাসে প্রথমবার চিকিৎসার জন্য দিদির বাড়িতে আসেন। জানা যাচ্ছে, তিনি ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর বাম পা ইতিমধ্যেই বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ক্রাচের সাহায্যে চলাফেরা করেন। শারীরিক এই দুর্বলতা সত্ত্বেও তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দ্রুত নিলয়কে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে।