ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা, ‘বাংলা বললেই আটকে রাখছে’, মন্ত্রিসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা

ভিনরাজ্যে কাজের সূত্রে যাওয়া বাঙালি শ্রমিকদের উপর হেনস্থা এবং ‘বাংলা বললেই আটকে রাখা’র অভিযোগ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে জানান, এই বিষয়ে সরব হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি ওড়িশায় ‘বাংলাদেশী’ সন্দেহে একাধিক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করার ঘটনা এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে যখন উত্তেজনা চরমে, তখনই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন:
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এ রাজ্যে দেড় কোটি মানুষ বসবাস করেন, যাঁরা ভিন রাজ্যের। এখানে তাঁরা নিরাপদ। এ রাজ্যের ২২ লক্ষ মানুষ অন্যন্য রাজ্যে বসবাস করলে, তাঁদের হেনস্থার শিকার কেন হতে হবে?” তিনি আরও জানান, ওড়িশায় এখনও অনেকে আটকে রয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের নির্দেশ:
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী সকল মন্ত্রী ও দলীয় নেতৃত্বকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভিনরাজ্যে বাঙালি নিগ্রহ নিয়ে এলাকায় এলাকায় প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
‘বাংলাদেশী’ তকমা ও রাজনৈতিক বিতর্ক:
সাম্প্রতিককালে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ‘বাংলাদেশী’ তকমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উপর হেনস্থার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য এই আগুনে ঘি ঢেলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এই ইস্যুতে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এমনকি, সংসদীয় অধিবেশনেও এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানো হবে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তার পর ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা বন্ধ হয় কিনা এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।