মমতা প্রসঙ্গেই ফের চর্চায় দিলীপ ঘোষ! দিল্লিতে দাঁড়িয়েই স্পষ্ট কথা…মুখ ‘বন্ধ’ বঙ্গ বিজেপির

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর শমীক ভট্টাচার্য দলের সল্টলেকের অফিসে আসতেই দেখা গিয়েছিল ঐক্যের ছবি। এর মাঝেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আবারও প্রকাশ্যে ইতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেল তাঁকে, যা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ বলেন, “সমস্যাটা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে এত গুরুত্ব দিয়েছিলেন কেন? এই জন্য অনেকে কষ্ট পেয়েছেন।”

সল্টলেক থেকে দিল্লি, জল্পনার ঘনঘটা
একুশের মঞ্চে তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে গত মঙ্গলবার সল্টলেকের বিজেপি অফিসে এসে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন দিলীপ। তিনি জানিয়েছিলেন, “যারা গল্প বানানোর তারা বানাবে, আমি বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতেই থাকব।” এর পরেই সস্ত্রীক দিল্লি রওনা দেন তিনি, উদ্দেশ্য ছিল বিজেপির ‘বড় নেতার’ সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। এটি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়, অনেকেই মনে করেন বাংলার বাইরে হয়তো বড় কোনো দায়িত্বে দেখা যাবে দিলীপকে। সেই জন্যই এই ‘ডাক’।

দিল্লিতে দাঁড়িয়ে ফের বিতর্ক উস্কে দিলেন দিলীপ
বুধবার দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিব প্রকাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও আরও একবার বিতর্ক উস্কে দিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দেওয়ার পরে দল অস্বস্তিতে পড়েছিল?”

উত্তরে দিলীপ বলেন, “আমি তো সবার প্রশংসা করি। দেখেছেন আমায় কখনও বিনা কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে? কারও সাথে আমার শত্রুতা নেই, প্রশংসা করব না কেন?… প্রশংসা করিনি, আমি বলেছি যে, যারা এত বড় বড় কথা বলছে তাদের নামেও তো কেস আছে, আর যাকে নিয়ে এত চর্চা, তার নামে কেস নেই। যার নামে কেস নেই, তার সাথে বসলে আমি খারাপ হয়ে যাব?”

এরপরই দিলীপ জানান, দিঘায় মমতার সঙ্গে দেখা করায় দলের কর্মীরা অস্বস্তিতে ছিলেন না, ‘কয়েকজন’ অস্বস্তিতে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কেন ‘গুরুত্ব’ দিয়েছেন ভেবে তাঁরা ‘কষ্ট’ পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ।

দিঘার ঘটনা এবং বিতর্কের সূত্রপাত
প্রসঙ্গত, দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিন সস্ত্রীক সেখানে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে প্রসাদও খেয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পরেই বঙ্গ বিজেপির একাংশের রোষানলে পড়েন দিলীপ।

দিলীপের এমন মন্তব্য ঘিরে অবশ্য এখনও বঙ্গ বিজেপির তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এই মন্তব্যের পর বঙ্গ বিজেপিতে তার কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।