সাতসকালে ছড়াল আতঙ্ক! হঠাৎ কেঁপে উঠল মাটি, ছোটাছুটি শহরবাসীর, হঠাৎ কী হল দিল্লিতে?

বৃষ্টিভেজা সকালের ঘুম তখনও পুরোপুরি কাটেনি রাজধানীবাসীর। কেউ তখনও শয্যাশায়ী, আবার কেউ বা পা বাড়িয়েছেন অফিসের পথে। এই অবস্থায় হঠাৎ কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪ মিনিট নাগাদ ঘটে এই ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৪। কম্পনের উৎসস্থল ছিল হরিয়ানার ঝাজ্জর, মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও কম্পন ছিল যথেষ্ট স্পষ্ট। দিল্লির বিভিন্ন আবাসন কেঁপে ওঠে, সিলিং ফ্যান দুলতে থাকে, ঘরের জিনিসপত্র নড়ে ওঠে। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, এমনকি হরিয়ানার একাধিক শহর, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মীরাট ও শামলি, এবং পাঞ্জাবেও কম্পন অনুভূত হয়।
ঝাজ্জরে কম্পন অনুভূত হয় দু’দফায়— প্রথমটি সকাল ৯টা ৭ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টি ৯টা ১০ মিনিটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সময় তাদের মনে হয়েছিল মাটি নড়ে উঠেছে, যেন ভূগর্ভ থেকে ধাক্কা আসছে। কিছু জায়গায় অফিসের কর্মীরা ভয়ে ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেন।
দিল্লির একাধিক এলাকায় বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন পরিস্থিতি। তার মধ্যে হঠাৎ ভূকম্পনে আতঙ্কের মাত্রা দ্বিগুণ হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কেউ বলেন, পাখা আচমকাই দুলতে শুরু করে, কেউবা লেখেন, “এটা যেন কোনও হরর সিনেমার দৃশ্য।” একজন লিখেছেন, “দিল্লিকে রাজধানী না রেখে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত!”
তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দিল্লি মাঝেমধ্যেই এমন কম্পনের সম্মুখীন হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেও দিল্লিতে ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন মাত্রা ছিল ৪।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূখণ্ডই ভূমিকম্পপ্রবণ। ফলে রাজধানী অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই কম্পন অনুভব করা নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিবারই আতঙ্কের ছায়া ঘনীভূত হয় শহরবাসীর মনে।