কালোজিরা খেলে কী হয় জানেন? উপকার জানলে রোজ খাবেন!

কালোজিরা খুব পরিচিত একটি নাম। ছোট ছোট কালো দানাগুলোর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা যে কী বিশাল ক্ষমতা নিহিত রেখেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
কালোজিরায় কী আছে?
কালোজিরার মধ্যে রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবাণুনাশক বিভিন্ন উপাদান। কালোজিরাতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হর্মোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক।
ক্রিয়াক্ষেত্র ও উপকারিতা
কালোজিরা মস্তিষ্ক, চুল, টাক ও দাঁদ, কান, দাঁত, টনসিল, গলাব্যথা, পোড়া নারাঙ্গা বা বিসর্গ, গ্রন্থি পীড়া, ব্রণ, যাবতীয় চর্মরোগ, আঁচিল, কুষ্ঠ, হাড়ভাঙ্গা, ডায়াবেটিস, রক্তের চাপ ও কোলেস্টেরল, কিডনী, মূত্র ও পিত্তপাথরী, লিভার ও প্লীহা, ঠাণ্ডা জনিত বক্ষব্যাধি, হৃদপিণ্ড ও রক্তপ্রবাহ, অম্লশূল বেদনা, উদরাময়, পাকস্থলী ও মলাশয়, প্রষ্টেট, আলসার ও ক্যানসার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকারী।
এছাড়াও, চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী। কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অর্জিত হয়। কালোজিরার তেল ব্যবহারে রাতভর আপনি প্রশান্তিপূর্ণ নিদ্রা যেতে পারেন। কালোজিরা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ব্যবহারের পদ্ধতি
কালোজিরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়, যেমন— টিংচার, বড়ি ও তেল হিসেবে। কখনো এককভাবে আবার কখনো অন্য ওষুধের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা হয়। কালোজিরা তেলের সাথে জলপাই তেল, নিম তেল, রসুনের তেল, তিল তেল মিশিয়ে নেওয়া যায়। কালোজিরা আরক কমলার রসের সাথেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
মাথাব্যথা: কপালে, উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তী স্থানে দৈনিক ৩-৪ বার কালোজিরার তেল মালিশ করুন। ৩ দিন খালি পেটে চা চামচে এক চামচ করে তেল পান করুন।
চুলপড়া: লেবু দিয়ে সমস্ত মাথার খুলি ভালোভাবে ঘষে ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ও ভালোভাবে মাথা মুছে নিন। মাথা শুকানোর পর সম্পূর্ণ মাথার খুলিতে কালোজিরার তেল মালিশ করুন। এক সপ্তাহেই চুলপড়া বন্ধ হতে পারে।
কফ ও হাঁপানি: বুকে ও পিঠে কালোজিরার তেল মালিশ করুন। হাঁপানীতে উপকারী অন্যান্য মালিশের সাথেও এটি মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
স্মরণশক্তি বৃদ্ধি: চা চামচে ১ চামচ কালোজিরার তেল ও ১০০ গ্রাম পুদিনা সিদ্ধ ১০ দিন সেবন করুন।
ডায়াবেটিস: কালোজিরার চূর্ণ ও ডালিমের খোসাচূর্ণ মিশ্রণ, কালোজিরার তেল ডায়াবেটিসে উপকারী।
কিডনির পাথর ও ব্লাডার: ২৫০ গ্রাম কালোজিরা ও সমপরিমাণ বিশুদ্ধ মধু মিশিয়ে দুই চামচ মিশ্রণ আধাকাপ গরম জলে মিশিয়ে প্রতিদিন আধা চা কাপ পরিমাণ তেলসহ পান করুন।
মেদ ও হৃদরোগ/ধমনী সংকোচন: চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হবে, তেমনি মেদও গলিত হবে।
অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক: এককাপ দুধ ও এক বড় চামচ কালোজিরার তেল দৈনিক ৩ বার ৫-৭ দিন সেবনে আরোগ্য হয়।
চোখের পীড়া: রাতে ঘুমোবার আগে চোখের উভয়পাশে ও ভুরূতে কালোজিরার তেল মালিশ করুন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল সেবন করুন।
উচ্চরক্তচাপ: যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোনো না কোনোভাবে সাথে খাবেন। গরম খাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরার ভর্তা খান।
ডায়রিয়া: সেলাইন ও হোমিও ওষুধের পাশাপাশি ১ কাপ দই ও বড় এক চামচ কালোজিরার তেল দিনে ২ বার সেবন করুন।
জ্বর: সকাল-সন্ধ্যায় লেবুর রসের সাথে ১ বড় চামচ কালোজিরা তেল পান করুন আর কালোজিরার নস্যি গ্রহণ করুন।
যৌন-দুর্বলতা: কালোজিরা চূর্ণ ও জয়তুনের তেল (অলিভ অয়েল), ৫০ গ্রাম হেলেঞ্চার রস ও ২০০ গ্রাম খাঁটি মধু = একত্রে মিশিয়ে সকালের খাবারের পর ১ চামচ করে সেবন করুন।
চেহারার কমনীয়তা ও সৌন্দর্যবৃদ্ধি: অলিভ অয়েল ও কালোজিরা তেল মিশিয়ে অঙ্গে মেখে ১ ঘণ্টা পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
আঁচিল: হেলেঞ্চা দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান।
পিঠ ও বাত: আক্রান্ত পিঠে ও অন্যান্য বাতের বেদনায় কালোজিরার তেল মালিশ করুন।
সকল রোগের প্রতিষেধক
মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত কালোজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমতো পায়, ফলে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। নিয়মিত অল্প পরিমাণ কালোজিরা খেলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।
কালোজিরার এই বহুমুখী উপকারিতা জেনে আপনি কি এটি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে যোগ করার কথা ভাবছেন?