পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে কিনা? জানতে পারবেন এই কয়েকটি লক্ষণে

গলব্লাডারে স্টোন বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। এই সমস্যা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি হয়ে থাকে। এর মূল কারণ হচ্ছে— মেনোপজের পর হরমোন ক্ষরণে ঘাটতি, গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়ার অভ্যাস, খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম, জল কম খাওয়া ইত্যাদি। যদিও এই রোগ নারীদের বেশি হয়, তবে পুরুষদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু উপসর্গ আপনাকে জানান দেবে যে আপনার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। সতর্কতা বাড়াতে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো।

পিত্তথলিতে পাথরের সাধারণ লক্ষণ
তীব্র ব্যথা: ওপরের পেটের ডান দিকে ব্যথা শুরু হয়ে ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়াতে পারে। এই ব্যথা প্রায়শই তীব্র হয় এবং এর সঙ্গে বমি হতে পারে।
জ্বর ও কাঁপুনি: অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
খাবার-পরবর্তী ব্যথা: তৈলাক্ত খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার বা মাংস খেলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। যদিও অনেকে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম পান, কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
পেটের মধ্যভাগে ব্যথা: ব্যথা পেটের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়ে একেবারে পেছন দিকেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বর ও বমি: জ্বরের সঙ্গে বমি হতে পারে, যা রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে।
জন্ডিস: জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস দেখা দিলে বুঝতে হবে পাথর সম্ভবত পিত্তনালিতে চলে গেছে, যা কোলেনজাইটিস (পিত্তনালির প্রদাহ) সৃষ্টি করতে পারে।
এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটি থাকলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই সমস্যাকে কখনোই অবহেলা করবেন না বা ফেলে রাখবেন না। গ্যাসের ওষুধ খাওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

প্রতিরোধের উপায়
পিত্তথলিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন ধীরে ধীরে কমানো প্রয়োজন।
শ্বাসযুক্ত খাবার: শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি অধিক আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
স্বাস্থ্যকর তেল: সূর্যমুখী তেল, অলিভ অয়েল-এর মতো অধিক উদ্ভিদজ তেল বা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেল গ্রহণ করুন।
প্রাণিজ চর্বি পরিহার: অতিরিক্ত প্রাণিজ চর্বি গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত জল পান: ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২.৫-৩ লিটার জল পান করা জরুরি।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত দৈহিক ব্যায়াম করা উচিত।
আপনার কি এই লক্ষণগুলোর কোনোটি আছে? যদি থাকে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।