মুখ পরিষ্কারের সময় এই ভুলগুলো করছেন না তো? সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

মুখ পরিষ্কার রাখা ত্বকের যত্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেকেই মুখ ধোয়ার সময় এমন কিছু ভুল করে থাকেন, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল তো মেলেই না, উল্টো ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রিডার্স ডাইজেস্ট-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এই ভুলগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। চলুন জেনে নিই সেই ভুলগুলো এবং কীভাবে সেগুলো এড়াবেন।
১. ভুল তাপমাত্রার জল ব্যবহার
মুখ ধোয়ার কাজে অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে। আবার বেশি ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্রগুলো ভালোভাবে খুলতে পারে না, ফলে ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। নিউইয়র্কের কসমেটিক ডার্মাটোলজিস্ট মিশেল গ্রিন বলেন, মুখ ধোয়ার জন্য কুসুম গরম জল সবচেয়ে উপযোগী। খুব গরম বা খুব ঠান্ডা নয়, এমন জল ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. ঘন ঘন মুখ ধোয়া
যাদের মুখমণ্ডলের ত্বক বেশি শুষ্ক, তাদের দিনে একবার এবং যাদের ত্বক বেশি তৈলাক্ত, তাদের দিনে দুইবার মুখ পরিষ্কার করা উচিত। এর চেয়ে বেশি পরিষ্কার করলে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক বা তৈলাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, সকালের চেয়ে রাতে মুখের ত্বকের পরিচর্যা করা বেশি কার্যকরী। ইয়েল ইউনিভার্সিটির ডার্মাটোলজি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর ডার্মা মোনা গোহরা বলেন, যদি দিনে একবার মুখ ধুয়ে থাকেন, তবে তা দিনের পরিবর্তে রাতে করুন। কারণ, রাতে ত্বক পরিষ্কার করলে সারাদিনের ধুলো-ময়লা দূর হয়।
৩. প্রায়ই স্ক্রাবিং করা
মুখের ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল রাখতে স্ক্রাবিং খুবই উপকারী, কারণ এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার ডার্মাটোলজিস্ট আইভি লি সতর্ক করে বলেন, প্রতিদিন স্ক্রাবিং করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ভাঁজ পড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকে প্রদাহও সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সপ্তাহে একবার স্ক্রাবিং করার পরামর্শ দেন, কারণ অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক।
৪. ময়লা কাপড়ে মুখ মোছা
মুখ মোছার জন্য সর্বদা পরিষ্কার কাপড় বা তোয়ালে ব্যবহার করুন। ভেজা তোয়ালে বা কাপড় পরিষ্কার না করে বারবার ব্যবহার করলে তাতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, যা ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও, অন্তত ২-৩ দিন পরপর মুখ মোছার তোয়ালে পরিষ্কার করা উচিত।
৫. তোয়ালে বা কাপড় নরম না হওয়া
মুখ মোছার কাজে বা কোনো প্রসাধনী ত্বকে লাগানোর সময় নরম তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করুন। খসখসে কিছু দিয়ে মুখ মুছলে মুখমণ্ডলের ত্বক ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে এবং ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হতে পারে। তাই মুখ ধোয়ার পর সবসময় নরম তোয়ালে ব্যবহার করুন।
৬. ফেসিয়াল টিস্যু ব্যবহার
খুব জরুরি প্রয়োজন না পড়লে ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত নয়। ডা. গ্রিন বলেন, ফেসিয়াল টিস্যু ত্বক সেভাবে পরিষ্কার করে না, বরং এতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই মুখ পরিষ্কার করার জন্য হাতের কাছে কিছু না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে ফেসিয়াল টিস্যু ব্যবহার করতে পারেন, তবে নিয়মিত নয়।
৭. সাবানজাত ক্লিনজার ব্যবহার
কখনোই সাবানজাত ক্লিনজার ব্যবহার করবেন না। ডা. গোহরা বলেন, সাবানজাত ক্লিনজার ব্যবহারের ফলে ত্বকে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়, ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং প্রদাহ তৈরি করে। অন্যদিকে, সাবানহীন ক্লিনজার ত্বকে আর্দ্রতা যোগায় এবং ত্বক সুস্থ রাখে। সুতরাং, কোনো ক্লিনজার কেনার আগে মোড়কের লেখা দেখে নিন।
৮. মুখ পরিষ্কারে বেশি বলপ্রয়োগ
মুখ থেকে ময়লা পরিষ্কারের জন্য বেশি জোরে ঘষামাজা করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। ত্বক থেকে ময়লা ওঠানোর জন্য বেশি জোরে ঘষামাজার কোনো দরকার নেই।
৯. শুষ্ক অবস্থায় মুখ মোছা
শুষ্ক অবস্থায় তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে মুখ মুছলে ত্বকে জ্বালা থেকে রক্ষাকারী প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি উঠে যায়। ফলে ত্বক সহজেই জীবাণু বা ময়লার সংস্পর্শে আসে। তাই মুখ ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় মুখ মুছুন।
১০. ময়েশ্চারাইজার লাগানোর জন্য অপেক্ষা
সাধারণত, কোনো ক্রিম বা লোশন মুখে লাগানোর দরকার থাকলে মুখ ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা লাগানো ভালো। কারণ মুখ ধোয়ার পরপর ত্বক সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার থাকে এবং জলের আর্দ্রতা ত্বকে থেকে যায়। তবে ডা. গোহরা এবং ডা. লি এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা বলেন, ব্রণের চিকিৎসার জন্য যেসব ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়, তা ভেজা অবস্থায় ত্বকে লাগালে জ্বালা-পোড়া করতে পারে। সুতরাং, এ ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুখের ত্বক শুষ্ক থাকা প্রয়োজন।
এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার ত্বককে আরও ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে পারবেন এবং অবাঞ্ছিত ক্ষতি এড়াতে পারবেন। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।