কর্মক্ষেত্রে শান্তি, বিরক্তিকর সহকর্মীকে সামলানোর কার্যকরী কৌশল!

অফিসে কাজের সময় মাথা ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা যেমন কাজের ক্ষতি করে, তেমনই আপনার মানসিকতার উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দিনের বেশিরভাগ সময় যেহেতু কর্মস্থলেই কাটে, তাই কাজের জায়গাটি হওয়া উচিত সবচেয়ে মনের মতো ও শান্তিময়। এখানে স্বস্তি বা শান্তির পরিবেশ না থাকলে চাপের মুখে কাজ করা যেমন অসম্ভব, তেমনই পেশার প্রতিও বিরক্তি আসতে পারে।
অফিসের নানা রাজনীতি, উত্থান-পতন ও কাজের দায়িত্বের সঙ্গে যুঝতে গেলে কর্মক্ষেত্রে একটি সুস্থ পরিবেশ থাকা অত্যাবশ্যক। কিন্তু অনেককেই অফিসে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো কোনও সহকর্মীর বিরক্তিকর আচরণ। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা নানা মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তাই সকলের সঙ্গে মনের মিল হওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে অল্পবিস্তর মানিয়ে চলতে হয়। কিন্তু কেউ যদি একটু বেশিই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান, তবে তার সঙ্গে কিছু কৌশল অবলম্বন করে চলুন। এতে তিনিও বিরক্ত করার সুযোগ পাবেন না এবং আপনিও বার বার বাগ্বিতণ্ডায় না জড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারবেন।
বিরক্তিকর সহকর্মীকে সামলানোর কার্যকর কৌশল:
ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন: মনে রাখবেন, অফিসটা কাজের জায়গা। আপনার কোনও বিরক্তিকর সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সমস্যা নিয়ে অন্য সহকর্মীরা আপনার পক্ষ নিলেও বা তা নিয়ে সেই সহকর্মীর সমালোচনা করলেও এই অশান্তি বার বার হতে দেবেন না। এতে কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আপনিও হাস্যাস্পদ হয়ে ওঠেন। তাই প্রথম থেকেই এমন সহকর্মীর সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন, যাতে সহজে আপনার সঙ্গে কোনও বিতর্ক বা অকারণ ঝঞ্ঝাটে তিনি না জড়াতে পারেন।
অপ্রয়োজনীয় আলোচনা এড়িয়ে চলুন: কাজের প্রয়োজন বা দরকারি দু-চার কথা ছাড়া এমন মানুষের সঙ্গে খুব একটা অন্য কথায় যাবেন না। তার বলা কোনও কথাতেও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। সাধারণত এ ধরনের লোক এক কথার অন্য মানে করে তা নিয়ে সমস্যা তৈরি করেন।
উপেক্ষা করুন: তার বলা কথা বা মন্তব্য নিয়ে অকারণে মাথা গরম করবেন না। বরং সে সব কথাকে মজার ছলে নিয়ে বুঝিয়ে দিন আপনি সে সব কথাকে কোনও গুরুত্বই দেননি। উপেক্ষাই এই ধরনের মানুষকে জব্দ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
উচ্চপদস্থ হলে বুদ্ধি করে চলুন: এই ব্যক্তি যদি আপনার চেয়ে বড় পদমর্যাদার হন, তা হলেও তাকে রেয়াত করা ঠিক হবে না। বরং এ সব ক্ষেত্রে বুদ্ধি খাটিয়ে সম্পর্ক ভালো রাখুন। যে সব বিষয়ে তিনি আলোচনা করতে পছন্দ করেন বা যে সব বিষয়ে তিনি বিরক্ত হন না, পারলে সেগুলোই আলোচনা করুন। নিজের কাজে এমন কোনও ফাঁকও রাখবেন না, যা থেকে তিনি বিরক্ত করার সুযোগ পান।
শান্তির সময় কথা বলুন: যদি তার সঙ্গে কোনও বিষয়ে সমস্যা তৈরিও হয়, তাহলে মন-মেজাজ ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত কোনও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে অংশ নেবেন না। বরং সংযত হয়ে তাকে জানান, এই বিষয়ে কিছু পরে আপনি তার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান: যদি এমন মানুষের কোনো রকম সমস্যার জন্য আপনার নিজের কাজের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তাকে সে বিষয়ে অবগত করুন। এর পরেও অভ্যাস না বদলালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।