জিভে জল আনা তেঁতুলের গুণ, শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও মহৌষধ!

তেঁতুলের নাম শুনলেই যেন জিভে জল আসে! চাটনি হোক বা আচার, সব বয়সের মানুষের কাছে তেঁতুল এক লোভনীয় ফল। তবে শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, তেঁতুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও অসাধারণ এক ফল। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা বাড়াতে তেঁতুলের জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দেহের প্রদাহ কমিয়ে বিভিন্ন রোগ দূরে রাখে। দৃষ্টিশক্তি, ত্বক বা শারীরিক নানা সমস্যায় এই ফলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোগমুক্ত সুস্থ শরীরের জন্য নিয়মিত তেঁতুল খাওয়া যেতেই পারে।

তেঁতুলের যত পুষ্টিগুণ:
তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই এবং বি। এর পাশাপাশি এতে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ডায়াটারি ফাইবার। শক্তিশালী সব অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এই ফলটিতে ভরপুর। টানা এক মাস তেঁতুল খেলে আমাদের দেহে এমন সব পরিবর্তন আসে যা সত্যিই অভাবনীয়। চলুন জেনে নিই সেই পরিবর্তনগুলো।

তেঁতুল খেলে কী কী উপকার হয়?
হজম ক্ষমতা বাড়ায়: বহুকাল ধরে ভারী খাবার খাওয়ার পর টক জাতীয় খাবার খাওয়ার চল রয়েছে। তবে সবচেয়ে কার্যকরী টক হলো তেঁতুল। তেঁতুলের ডায়াটারি ফাইবার হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ নিশ্চিত করে, ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, তেঁতুলের বিলিয়াস সাবস্টেন্স আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং বদ-হজমের আশঙ্কা হ্রাস করে। ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যের (ক্রনিক কনস্টিপেশন) মতো সমস্যা দূর করতেও তেঁতুল দারুণ কাজে আসে। এক কথায়, পেটের ভেতরের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে এই ফলটি ভূমিকা রাখে, ফলে যেকোনো ধরনের পেটের রোগ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

হৃৎপিণ্ড চাঙ্গা হয়ে ওঠে: রক্তচাপ বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তেঁতুল খাওয়ার কথা বলা হলেও, নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়, যা প্রমাণিত। তেঁতুলের বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল হার্টের কর্মক্ষমতা কমাতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই শরীর যখন এই দুই ক্ষতিকর রোগ থেকে দূরে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।

রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটে: তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। ফলে দেহে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। আমাদের দেশের সিংহভাগ নারীই অ্যানিমিয়ার শিকার। তাই এদেশে তেঁতুল খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও অনেক বেশি। নারীদের প্রিয় ফল হওয়ায় রক্তস্বল্পতা আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিয়মিত তেঁতুল খেয়ে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়ে: বি কমপ্লেক্স ভিটামিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনটি দেহের স্নায়ুকোষের শক্তি বাড়ায়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই কগনিটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘটে। এর সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে। আর তেঁতুলে বি কমপ্লেক্স ভিটামিনটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

ওজন হ্রাসে সাহায্য করে: তেঁতুল আমাদের দেহে হাইড্রোঅক্সিসিট্রিক অ্যাসিড (HCA)-এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই উপাদানটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে এর ফাইবার ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। তাই যারা ওজন কমাতে চেষ্টা করছেন, তারা নিয়মিত তেঁতুল খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল দারুণভাবে কাজ করে। ফলটি কার্বোহাইড্রেটের শোষণ মাত্রা কমিয়ে দিতে সক্ষম, ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। শরীরে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বাড়তে থাকলে তা ভেঙে রক্তে শর্করার মাত্রাও বৃদ্ধি করে, সে কারণেই চিকিৎসকরা অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেতে মানা করেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় তেঁতুল শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে শুধু সংক্রমণ নয়, ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।