রাতে ঘুম থেকে উঠে তীব্র ঘাড় ব্যথা? কী করবেন আর কী করবেন না!

রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ যদি তীব্র ঘাড় ব্যথা অনুভব করেন, তবে অনেকেই ঘাবড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত স্থানে যেকোনো মলম মালিশ করতে শুরু করেন। কিন্তু এতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা কমার বদলে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ঘাড় ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ঘাড় ব্যথার কারণ:
দীর্ঘমেয়াদি ঘাড় ব্যথার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:
ভুল ভঙ্গিমা: দীর্ঘদিন ধরে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত উঁচু বালিশ ব্যবহার করা, একটানা নিচু ডেস্ক ব্যবহার করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করা।
অতিরিক্ত চাপ: মাথায় অতিরিক্ত ওজন বহন করা।
আঘাত: যেকোনো ধরনের আঘাত।
ত্রুটিপূর্ণ ব্যায়াম: ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করা।
কিছু রোগ: সারভাইক্যাল রিব, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, পিএলআইডি (প্রোল্যাপসড ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক), সারভাইক্যাল ক্যানাল স্টেনোসিস ইত্যাদি।
ঘাড় ব্যথার উপসর্গ:
ঘাড় ব্যথার সাধারণ উপসর্গগুলো হলো:
ঘাড়ে ব্যথা এবং মাংসপেশি শক্ত হয়ে আসা।
মাথা ব্যথা।
ঘাড় যেকোনো এক দিকে বা দুই দিকে ঘোরাতে না পারা।
দীর্ঘমেয়াদি ঘাড় ব্যথার ক্ষেত্রে ঘাড় থেকে হাতের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।
এক হাত বা দুই হাতে অবশ বা ঝিনঝিন অনুভূতি হওয়া।
করণীয়:
যেকোনো ঘাড় ব্যথাতে প্রথম কিছু পদক্ষেপ নিলে তা গুরুতর আকার ধারণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে:
নেক ইমোবিলাইজেশন: প্রথম করণীয় হলো অল্প কয়েক দিনের জন্য ঘাড়কে স্থির রাখা। এর জন্য সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার করে ঘাড় নড়াচড়া না করানো যেতে পারে। এতে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করবে না।
তাপমাত্রা প্রয়োগ: স্বল্পমেয়াদি ব্যথায় বরফ বা ঠাণ্ডা জল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় গরম জলের সেঁক ব্যবহার করলে মাংসপেশি শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: ব্যথা যদি ঘাড় থেকে হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে ঝিনঝিন বা অবশ অনুভূতি থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এক্স-রে ও এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা অপরিহার্য।
ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি অথবা কিছু ঘরোয়া ব্যায়াম করে ঘাড় ব্যথা কমানো যেতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম এবং থেরাপির মাধ্যমে মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এবং সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখতে সাহায্য করেন।