আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, সর্দি-কাশি-জ্বর থেকে বাঁচতে করণীয়!

দিনের বেলায় চড়া গরম, আবার রাতের দিকে ঠান্ডা আবহাওয়া—এই বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ঘুমের জন্য সহায়ক হলেও এর প্রভাবে সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সমস্যা বাড়াতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনে শরীর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এই সময়ে তাদের একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। জেনে নিন এই সময়ে জ্বর ও কাশি থেকে বাঁচতে কী কী করণীয়:
পর্যাপ্ত জল পান করুন:
গরমের কারণে ঘামের মধ্য দিয়ে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এই সময় তাই বেশি বেশি জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শরীর জলশূন্য হলে ব্যথা, মাথা ধরার মতো সমস্যা শুরু হয়। গরম কিংবা ঠান্ডা, সব সময়েই শরীরে পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন পড়ে। তাই শুধু জল পানের পাশাপাশি বেশি করে তরল খাবার, স্যালাইন, স্যুপ, ডাবের জল ইত্যাদি পান করুন। এতে জ্বর ও কাশির মতো সমস্যা থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন।
পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন:
দিনের বেলা যতই গরম থাকুক, রাতের দিকে কিন্তু আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করে। তাই পাতলা পোশাক পরে না ঘুমানোই ভালো। আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরেই ঘুমাতে যান। গলাব্যথার মতো সমস্যা থাকলে গলায় স্কার্ফ বা পাতলা কাপড় জড়িয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে খুশখুশে কাশির ভয় অনেকটাই কমবে।
ঠান্ডা জল পান করবেন না:
দিনের বেলা যতই গরম পড়ুক, ঠান্ডা জল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণে, এই গরম তো এই ঠান্ডা—এমন পরিস্থিতিতে ঠান্ডা জল এড়িয়ে চলাই উত্তম। গলা ব্যথা হলে হালকা গরম জলে লবণ মিশিয়ে গার্গল করে নিন। ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, যাতে হঠাৎ করে ঠান্ডা না লাগে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন:
নিয়মিত ব্যায়াম করলে তা আপনাকে অনেক ধরনের অসুখ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন সকালে কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা হালকা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এতে সুস্থ থাকা সহজ হবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। জীবনযাপনকে একটি সঠিক রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে অসুখ-বিসুখ দূরে থাকবে।
সিগারেট ও বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন:
সিগারেট বা তামাকজাতীয় খাবার গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে বন্ধ করুন। কারণ, এটি কাশির অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। এছাড়াও, কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে। যেমন— রোদ থেকে ঘরে ঢুকেই সঙ্গে সঙ্গে এসি চালিয়ে দেবেন না। গরমে ঘেমে গেলে আগে শরীর ভালোভাবে মুছে নিন। রাতে তাপমাত্রা কমতে থাকলে জানালা বন্ধ করে দিন এবং ঘুমের সময় একটি চাদর গায়ে দিতে পারেন।