মুদ্রাদোষ নয়, ‘টরেটে সিন্ড্রোম’ হতে পারে অনবরত মাথা দোলানো বা চোখ পিটপিট করা!

আমরা অনেকেই নিজের অজান্তেই কাউকে দেখেছি বারবার মাথা দোলাতে অথবা ক্রমাগত চোখ পিটপিট করতে। এটিকে সাধারণত ‘মুদ্রাদোষ’ হিসেবেই গণ্য করা হয়, এবং যারা এমনটা করেন, তারা প্রায়শই বিষয়টি এড়িয়ে যান বা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এসব লক্ষণ কোনো মুদ্রাদোষ নয়। এগুলো হতে পারে ‘টরেটে সিন্ড্রোম’ (Tourette Syndrome) এর লক্ষণ।

‘টরেটে সিন্ড্রোম’ কী?
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, অনেক কিশোরীর (বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের) মধ্যে এই সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে। এটি এক স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া, যা টরেটে সিন্ড্রোমের মতো নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারের কারণে হয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেস, ব্যাকুলতা ও অবসাদের কারণেও এমন হতে পারে। এই ডিসঅর্ডারের সঠিক কারণ এখনও জানা নেই, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ বিকাশের কারণে এমনটি হতে পারে। ছোটবেলা থেকেই এর লক্ষণ শুরু হতে পারে। জেনেটিক বা পরিবেশগত কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী?
টরেটে সিন্ড্রোমের প্রধান কারণ হলো ‘টিকস’ (Tics)। টিকস হলো পেশীর অনৈচ্ছিক খিঁচুনি, যা একটি পেশী গোষ্ঠীর আকস্মিক অন্তর্বর্তীকালীন টানের সঙ্গে জড়িত। এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

চোখ পিটপিট করা
ঘ্রাণ নেওয়া
গলা পরিষ্কার করা
শব্দ করা
হাসি হাসি মুখভঙ্গি
মাথা দোলানো
কাঁধ নাড়ানো
এই টিকসগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি খুব মৃদু হয়, যা সহজে লক্ষ্যই করা যায় না। স্ট্রেস, উত্তেজনা, অসুস্থতা এবং ক্লান্তি এই টিকসগুলোকে আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সামাজিক প্রভাব ও কারা বেশি প্রভাবিত হন?
এই লক্ষণগুলো অনেক সময় লজ্জাজনক হতে পারে এবং ব্যক্তির সামাজিক জীবন ও কাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নারীর তুলনায় ২-১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোররা এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি:
সেন্টারর্স ফর ডিসিস কন্ট্রোলের (CDC) তথ্য অনুযায়ী, এই সিন্ড্রোম নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি টেস্ট নেই। চিকিৎসকরা সিন্ড্রোম ও টিক ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য ব্যক্তির লক্ষণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেন, কারণ টিক ডিসঅর্ডার একে অপরের থেকে আলাদা হয়।

এই রোগের সম্পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারে এমন কোনো ওষুধ এখনও নেই। তবে আক্রান্তদেরকে মাঝেমধ্যে বিহেভিওরাল থেরাপি বা ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। এজন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালের কাছে কাউন্সিলিং করানো উচিত। কিছু নিউরোলেপ্টিক ওষুধও এর জন্য দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, এডিএইচডি (ADHD) ও অ্যানক্সাইটি (Anxiety) এর মতো সহযোগী রোগেরও চিকিৎসা করানো উচিত।