ফ্যাটি লিভার: নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে কী করবেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশ্বজুড়েই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপনকেই এই ব্যাধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়, যা পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
প্রাথমিক অবস্থায় এই ব্যাধি শনাক্ত করে চিকিৎসা না করা হলে তা জটিল রূপ নিতে পারে। এর থেকে হেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস এবং শেষ পর্যায়ে সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে।
ফ্যাটি লিভারের প্রকারভেদ ও কারণ
ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালটেন্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তী জানান, ফ্যাটি লিভার অসুখটির দুটি প্রধান ভাগ রয়েছে: অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার এবং নন-অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার।
যারা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার দেখা দেয়। অন্যদিকে, স্থূলতা হলো নন-অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ। এই বিশেষজ্ঞ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন:
মদ্যপান: ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তীর মতে, মদ্যপান ফ্যাটি লিভার ডিজিজের অন্যতম প্রধান কারণ। মদ সরাসরি লিভারের ক্ষতি করে।
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট: কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি সবারই লোভ বেশি। তবে এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খেলে এক সময় তা লিভারে চর্বি জমায়। যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাদের ভাত, রুটি, আলুর মতো উচ্চ কার্বযুক্ত খাবার খাওয়া কমানো উচিত। দেখা গেছে, এই খাবার থেকেই বেশিরভাগ সময় ফ্যাটি লিভার হয়।
ডায়াবেটিস: বর্তমানে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী প্রায় ঘরে ঘরেই। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বেশি দেখা যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
উচ্চ কোলেস্টেরল: ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তীর মতে, শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যেমন – ট্রাইগ্লিসারাইডস বাড়লে লিভারে ফ্যাট জমতে পারে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই লিপিড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং ওষুধ গ্রহণ করুন।
অলস জীবন ও স্থূলতা: স্থূলতা এবং অলস জীবনযাপন এই ব্যাধির মূল কারণ। এজন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা উচিত সবারই।
অত্যাধুনিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ফ্যাটি লিভারের অত্যাধুনিক চিকিৎসা আছে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এবং খাদ্যাভ্যাসে বদল আনলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ জীবনযাপন এবং সচেতনতাই এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। আপনার জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে কি?