একা বেড়ে ওঠা শিশুর জেদ সামলানোর উপায়, বাবা-মায়েদের জন্য জরুরি পরামর্শ!

বর্তমান সময়ে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়েরা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শিশুরা প্রায়শই একা একা বড় হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যার মধ্যে অল্পতে রেগে যাওয়া এবং অতিরিক্ত জেদি হওয়া অন্যতম। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়েন যে কীভাবে সন্তানকে সামলাবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি সহজ পন্থা অবলম্বন করলেই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।

আপনার সন্তানকে শান্ত রাখার সহজ কৌশল:
আপনিই সন্তানের রোল মডেল: কখনো ভুলে গেলে চলবে না যে আপনিই আপনার সন্তানের রোল মডেল। আপনি কোনো পরিস্থিতিতে কেমন আচরণ করছেন, তা দেখেই সন্তান বড় হয়। তাই যদি আপনার রেগে গিয়ে চিৎকার করার প্রবণতা থাকে, তবে এখনই তা পরিত্যাগ করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। আপনার শান্ত আচরণ সন্তানকেও শান্ত থাকতে শেখাবে।

সন্তানের সঙ্গে রাগ করবেন না: সন্তান মেজাজ হারালে আপনারও চিৎকার করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রথমে সন্তানকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরুন। দেখবেন, এতেই সে খানিকটা নিজেকে সামলে নেবে। শারীরিক স্পর্শ শিশুদের শান্ত করতে দারুণ কাজ করে।

কান্নাকাটি করতে বারণ করবেন না: সন্তান কেঁদে ফেললে তাকে বকা দিয়ে বা কান্নাকাটি করতে বারণ করবেন না। বিশেষ করে ছেলে সন্তানকে “ছেলেরা আবার কাঁদে নাকি?” এমন কথা ভুলেও বলবেন না। বরং সেই সময় তাকে কিছুটা এড়িয়ে চলুন। নিজের মতো কিছুটা সময় কাটাতে দিন, যাতে সে তার আবেগ প্রকাশ করতে পারে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝান: আপনার সন্তান কিছুটা শান্ত হয়ে যাওয়ার পর তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝান। যে বিষয়ে সে এত রেগে গিয়েছিল বা কান্নাকাটি করেছিল, তা ঘটনাক্রম মিলিয়ে আলোচনা করুন। সন্তানকে বোঝান যে সেই মুহূর্তে তার আচরণ হয়তো করার প্রয়োজন ছিল না এবং অন্য কৌশলেও সে পরিস্থিতিটি সামলাতে পারত। হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ বা হট্টগোল তার আশপাশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সেটিও বুঝিয়ে বলুন।

অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকার কৌশল শেখান: সবশেষে তাকে বুঝিয়ে বলুন, যখন সে কোনো বিষয়ে বিরক্ত হচ্ছে বা রেগে যাচ্ছে, তখন কীভাবে নিজেকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত রাখবে। এক্ষেত্রে তাকে অন্য কোনো পছন্দের কাজ করতে বলতে পারেন। আপনার সন্তান যদি রং-তুলি নিয়ে সময় কাটাতে ভালোবাসে, তবে তাকে তা করতে বলুন। অথবা একা কোনো একটি ঘরে চলে যেতে বলুন। এই কৌশলগুলো শেখালে আপনার সন্তান হঠাৎ অতিরিক্ত রেগে যাওয়ার সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারে।