মদ্যপানে ভয়ঙ্কর বিপদ: ধূমপানের চেয়েও কি বেশি ক্ষতিকারক?

উৎসবের মরসুম আসুক বা না আসুক, বহু মানুষই মদ্যপানের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ মানতে নারাজ। আজকাল পার্টিতে “সোশ্যাল ড্রিংকিং” নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা মদ্যপায়ীদের জন্য উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে যা রীতিমতো ভীতি সঞ্চার করার মতো।

যারা মনে করেন প্রতিদিন নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় উৎকৃষ্ট মানের ওয়াইন পান করলে শরীর ভালো থাকে, তারা হয়তো জানেন না যে এই অভ্যাস আসলে ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন পরিচালিত ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজেস’ শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই সত্যটি আরও প্রকটভাবে সামনে এসেছে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরেই এই বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাদের মতে, ধূমপানকে যতটা ভিলেন হিসেবে দেখানো হয়, মদ্যপানের বিষয়ে তার সিকিভাগ সচেতনতাও নেই, এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে, মদ্যপানকে একটি “ফ্যাশনেবল” অভ্যাস হিসেবে মনে করা হয়, যার কারণে শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও এর প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। তাই গবেষকদের সাবধানবাণী সত্ত্বেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে।

বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মদ্যপানে অভ্যস্ত। যদি এখনই এই সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম এর কুপ্রভাবে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে, জনস্বাস্থ্য আধিকারিকরা চুপ করে বসে নেই। তারা তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভবত আগামী বছর থেকেই মদের বোতলের উপরেও বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ লেখার নিয়ম চালু করা হবে। বিশ্বজুড়ে মদের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা, বিজ্ঞাপনের বাড়বাড়ন্ত কমানো এবং বিক্রির সময় ও স্থানের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার চেষ্টা চলছে। এই পদক্ষেপগুলি মদ্যপানের প্রবণতা কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।