আপনি কি ‘শপাহলিক’? জানুন এই আসক্তির লক্ষণ ও মুক্তির উপায়!

হাল ফ্যাশনের পোশাক পরতে ভালোবাসেন? কিন্তু ইদানীং কি মনে হচ্ছে যে ফ্যাশনের পেছনে মাত্রাতিরিক্ত খরচ করতে গিয়ে মাসের অর্ধেক না পেরোতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে যাচ্ছে? যদি এমনটা হয়, তাহলে এখনই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে আপনি একজন ‘শপাহলিক’ বা কেনাকাটার নেশায় আসক্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো কী কী এবং এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় কী।
শপাহলিক হওয়ার লক্ষণগুলি কী কী?
শপিং আপনার আর্থিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলছে: কোনো অভ্যাস মাত্রাতিরিক্ত হয়ে উঠছে কিনা, তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনার সামগ্রিক জীবনযাপন পদ্ধতিতে তার প্রভাব কেমন পড়ছে, তা খতিয়ে দেখা। যদি কেনাকাটা আপনার পকেটে রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে সময় থাকতেই সতর্ক হন। কোনোভাবে বাড়তি টাকাপয়সা হাতে এলেও যারা সঙ্গে সঙ্গে জামাকাপড়, জুতো বা ব্যাগ কিনে ফেলেন, তাদেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে প্রায়ই ক্রেডিট কার্ডের লিমিট পেরিয়ে যায়: এটিও একটি খুব স্পষ্ট ইঙ্গিত। ক্রেডিট কার্ডে প্রচুর ঋণের বোঝা থাকা বা লিমিটের বাইরে গিয়ে খরচের অভ্যাস থাকলে সাবধান। কেনাকাটির কারণে ক্রেডিট কার্ডে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা চাপাবেন না। জীবনে আরও অনেক জরুরি প্রয়োজন আসতে পারে, তখন সমস্যায় পড়তে পারেন।
আলমারি ঘাঁটলে সব সময়েই এক বা একাধিক আনকোরা পোশাক খুঁজে পান: আপনি কবে কিনেছিলেন ভুলেই গিয়েছেন, কিন্তু আলমারি ঘাঁটলেই কোনো না কোনো পোশাক দেখে নিজেই আশ্চর্য হয়ে যান? এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে আপনি অপ্রয়োজনে প্রচুর কেনাকাটা করেন। যারা শপাহলিক হন, তারা সাধারণত নতুন কিছু কেনার পরেই সেটা লুকিয়ে ফেলেন, নিজেদের দুর্বলতার কথা অন্যকে জানাতে চান না।
কেনাকাটি করার পরই মন খারাপ হয়: আপনি নিজেই জানেন যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসপত্র কিনছেন, তাই জন্যই আপনার মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু তার ফলেও যে কেনাকাটা বন্ধ করে দিতে পারছেন, তা নয়। বরং এই মন খারাপটা থামাতে গিয়েই আবার কেনাকাটা করতে হচ্ছে। যে কোনো মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কাটাতে গেলেই যাদের শপিং করতে হয়, তারা সাবধান হন।
সিনেমা দেখা, আড্ডা দেওয়ার চেয়েও শপিং বেশি পছন্দ: যে যে কাজগুলি করে মানুষের মন হালকা হয়, তাতেও আপনি কেনাকাটা করার মতো আনন্দ পান না। সিনেমা দেখার চেয়ে মলে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করতে আপনার বেশি ভালো লাগে। ব্যায়াম করা বা ভালো খাওয়া-দাওয়ার দিকেও মোটেই মন নেই। বরং যেদিন দোকানে গিয়ে কিছু কেনাকাটা হয় না, সেদিন অন্ততপক্ষে অনলাইনে শপিং করতেই হয় আপনাকে।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন?
যদি উপরের লক্ষণগুলির সঙ্গে আপনার মিল খুঁজে পান, তবে প্রথমেই স্বীকার করুন যে আপনার একটি সমস্যা আছে। এরপর বোঝার চেষ্টা করুন যে এই সমস্যা কোন কোন ক্ষেত্রে চাগাড় দেয় এবং কখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
কিছু সহজ পদক্ষেপ নিতে পারেন:
ব্যাগে খুব বেশি টাকা বা ক্রেডিট কার্ড রাখার দরকার নেই।
কেনাকাটা করার আগে ভালোভাবে ভেবে দেখুন, জিনিসটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন কিনা।
বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটান, যা আপনার মনকে সতেজ রাখবে এবং শপিংয়ের ভাবনা থেকে দূরে রাখবে।