নখ কামড়ানোর বদভ্যাস? জেনে নিন মুক্তির সহজ উপায়!

সামান্য টেনশন, উত্তেজনা অথবা নিছকই একঘেয়েমি – এসবের জেরে অনেকেই নখ কামড়ানোর বদভ্যাসে ভোগেন। দাঁত দিয়ে নখ কাটার এই অভ্যাসটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, জনসমক্ষে এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতিতেও ফেলে দেয়। এর চেয়েও বড়ো কথা, সারাদিন হাতে আমরা নানা ধরনের কাজ করি, ফলে হাতে অজস্র জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। দাঁত দিয়ে নখ কাটলে এই জীবাণুগুলি সরাসরি মুখে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই অভ্যাস থাকলে যে কেবল নখের আকারই খারাপ হয়ে যায় তা নয়, দাঁত বা মাড়িতে আঘাত লাগতে পারে। নখের চারপাশের টিস্যু জখম হতে পারে, এমনকি অনেক সময় সামনের দাঁতেও চিড় ধরে যায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, নখ চিবানোর এই অভ্যাসটি ছাড়ার চেষ্টা করুন। নিচে বাতলে দেওয়া পদ্ধতিগুলি আপনাকে সাহায্য করতে পারে:
নিয়মিত ম্যানিকিওর করান
নিয়ম করে ম্যানিকিওর করালে দুটি সুবিধা হতে পারে। প্রথমত, ম্যানিকিওর বেশ খরচসাপেক্ষ, তাই অযথা নখ নষ্ট করতে ইচ্ছা করবে না। দ্বিতীয়ত, ম্যানিকিওর করা এবং নেলপলিশ লাগানোর পর আপনার হাত দেখতে এতটাই সুন্দর হয়ে উঠবে যে দাঁত দিয়ে টেনে নখ ছিঁড়তে ইচ্ছে করবে না। অনেক প্রসাধন প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বিটার নেলপলিশ’ নামে একটি পণ্য তৈরি করে এই অভ্যাস ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে। এটি অনলাইনে সহজেই কিনতে পাওয়া যায় এবং নখে লাগালে তেতো স্বাদের কারণে নখ কামড়ানো থেকে বিরত থাকা যায়।
নখ চিবানোর কারণ খুঁজে বের করুন
ঠিক কোন কোন ট্রিগার থেকে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করছে, সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। কেউ টেনশন থেকে এমনটা করেন, কেউ খিদে পেলে, কারও ক্ষেত্রে ভয় পাওয়া বা স্রেফ বোর হয়ে যাওয়াটাও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোন পরিস্থিতিতে আপনার এই সমস্যা বাড়ে, সেটা খুঁজে বের করতে পারলে সমাধানও সহজ হবে।
হাতের কাছে রাখুন চিউয়িং গাম ও স্ট্রেস বল
আপনার হাত ও মুখ দুটোই যদি ব্যস্ত থাকে, তাহলে নখ চিবানোর হার নিশ্চিতভাবেই কমবে। হাতের কাছে স্ট্রেস বল ও চিউয়িং গাম রাখুন। সারাক্ষণ দাঁতে নখ কাটার অভ্যাস আছে যাদের, তারা চিউয়িং গাম চিবোলে অনেকটাই অন্যমনস্ক হবেন। স্ট্রেস বা অ্যাংজাইটি বা আপনার ক্ষেত্রে যেটি ট্রিগার হিসেবে কাজ করে, তা বাড়লেই হাতের মুঠোয় ভরে নিন স্ট্রেস বল।
রাতারাতি ফল আশা করবেন না
যে কোনো অ্যাডিকশন বা নেশা ছাড়াতে কিছুটা সময় লাগে। রাতারাতি ফল পাওয়ার আশা করবেন না, এবং ফলাফল না পেলে হতাশও হয়ে পড়ার কারণ নেই। ধীরে ধীরে সচেতনভাবে অভ্যাসটা ছাড়ার চেষ্টা করুন। যাদের সন্তান আছে, তারা খেয়াল রাখবেন, শিশুরা মা-বাবাকে দেখেই অনেক কিছু শেখে। আপনার এই কুঅভ্যাসটি সন্তানের মঙ্গলের জন্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছাড়া উচিত।